ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চল বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ এক ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। স্থানীয় সময় কম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে সতর্কতা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা ৪.২ রিখটার স্কেলে মাপা হয়েছে এবং এটি মৃত সাগর অঞ্চলের নিকটবর্তী শহরগুলোতে বিশেষভাবে অনুভূত হয়। তবে আশার বিষয়, কোনো হতাহতের খবর বা বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল দিমোনা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দক্ষিণে, যা মৃত সাগরের রিফট ভ্যালি অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয়রা জানান, কম্পন হঠাৎ অনুভূত হওয়ায় কিছু সময় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ইসরাইলের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ সক্রিয় করা হয়। মৃত সাগর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বাজানো হয়, যাতে স্থানীয় জনগণ সতর্ক থাকে। জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কোনো আহত বা বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলি পুলিশ কম্পন অনুভূত এলাকায় ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থল পরিদর্শনে নিয়োজিত হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছে এবং জরুরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করছে।
ভূমিকম্পের মূল তথ্য নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ ও সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল ৯:০০ |
| ভূমিকম্পের মাত্রা | ৪.২ রিখটার স্কেলে |
| কেন্দ্রস্থল | দিমোনা শহর থেকে ১৯ কিমি দক্ষিণে |
| প্রভাবিত অঞ্চল | মৃত সাগর রিফট ভ্যালি, মধ্য ও দক্ষিণ ইসরাইল |
| সতর্কতা ব্যবস্থা | হোম ফ্রন্ট কমান্ড স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা, মৃত সাগর এলাকায় সাইরেন |
| হতাহত / ক্ষতি | কোনো গুরুতর হতাহত বা ক্ষতি নেই (ম্যাগেন ডেভিড আদম) |
| পুলিশ পদক্ষেপ | ভবন ও জনসমাগমস্থল পরিদর্শন, জরুরি প্রস্তুতি পরীক্ষা |
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, মৃত সাগরের রিফট ভ্যালি একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন নিয়মিতভাবে ঘটতে পারে। যদিও ৪.২ মাত্রার কম্পন সাধারণত সীমিত প্রভাব ফেলে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার এবং জরুরি প্রস্তুতি সক্রিয় রাখার গুরুত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্থানীয় জনগণের প্রাথমিক আতঙ্ক সত্ত্বেও, হোম ফ্রন্ট কমান্ড এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর দ্রুত ব্যবস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ভূমিকম্প পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে, যাতে নাগরিক ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
