দুই বছরের বিরতির পর আজ ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ নতুন রূপে শুরু হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার আয়োজক দেশ জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া, যেখানে ১৫ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। বিশ্বসেরা ১৬টি যুবাদলের অংশগ্রহণে আয়োজন হওয়া এই বিশ্বকাপে প্রত্যেক দল তাদের কৌশল, প্রতিভা এবং প্রস্তুতি প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে, এবং সামাজিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রতিযোগিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
টুর্নামেন্টে ১৬টি দল চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল মোট ১২টি দল ‘সুপার সিক্স’ পর্বে উঠবে। সুপার সিক্সে দলগুলোকে আবার দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে, যা পরবর্তী পর্বকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক করবে। বাংলাদেশ ‘১ নম্বর গ্রুপ’-এ থাকছে, যেখানে ‘সি’ গ্রুপের তিনটি দলও অন্তর্ভুক্ত। সুপার সিক্সে জায়গা করা মানে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে মোকাবিলা এবং বিশ্বকাপ শিরোপার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হওয়া।
২০২০ সালের বিশ্বকাপে চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোপা জয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল পরবর্তী দুই বিশ্বকাপে তেমন সাফল্য পাননি। ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো দলটি ২০২৪ সালে সুপার সিক্সে ওঠার সুযোগ হারিয়েছে। এই ব্যর্থতার পর নতুন ক্রিকেটার, নতুন কোচিং স্টাফ এবং উন্নত কৌশল নিয়ে বাংলাদেশ এবার আবারও শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামছে। তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে আগ্রহ, আত্মবিশ্বাস এবং উদ্যম দৃশ্যমান।
বাংলাদেশ দল তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে ১৭ জানুয়ারি, শনিবার। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রতিপক্ষ হবে ভারত। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের বাকি দুই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। প্রতিটি ম্যাচ যুবাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রুপে সাফল্য সুপার সিক্সে যাওয়ার পথ নির্ধারণ করবে।
নিচের টেবিলে বাংলাদেশের গ্রুপ এবং প্রথম ম্যাচের সূচি দেওয়া হলো:
| গ্রুপ | দেশ | প্রথম ম্যাচের তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু |
|---|---|---|---|---|
| বি | বাংলাদেশ | ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ | ভারত | কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ে |
| বি | বাংলাদেশ | ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ | নিউজিল্যান্ড | কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ে |
| বি | বাংলাদেশ | ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | যুক্তরাষ্ট্র | কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ে |
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের যুবাদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য ফিটনেস ক্যাম্প এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোচিং স্টাফের মতে, নতুন পেস বোলার ও ব্যাটসম্যানরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত। ফিল্ডিং, ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা, কৌশল এবং টিমওয়ার্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের সাফল্যের স্মৃতি এখনও তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে উজ্জীবিত, এবং এবার তাঁরা আবারও বিশ্ব ক্রিকেটের চূড়ান্ত মঞ্চে নিজেদের ছাপ রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন বাংলাদেশের যুবাদের সাহসিকতা, খেলোয়াড়ি দক্ষতা এবং কৌশলিক চিন্তাভাবনা সমৃদ্ধ এই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
