কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় রোহিঙ্গা ‘দুর্বৃত্তের’ গুলিতে এক স্থানীয় যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুর রহিম প্রকাশ রইক্ষা (৪০)। তিনি টেকনাফের মুচনী নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং হাবিবুর রহমানের ছেলে। পেশায় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত আবদুর রহিম পরিবার নিয়ে এলাকায় বসবাস করতেন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে মুচনী নয়াপাড়া রেজিস্টার ক্যাম্পসংলগ্ন বিকাশ মোড় এলাকায়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তথ্য অনুযায়ী, রাতের কোনো এক সময়ে কয়েকজন রোহিঙ্গা দুর্বৃত্ত আবদুর রহিমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরদিন বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন বিকাশ মোড় এলাকায় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবদুর রহিমের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহালে শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের স্ত্রী ছারা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “রাতে আমার স্বামীকে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ ছিল। সকালে শুনি রাস্তায় তার লাশ পড়ে আছে। আমার ঘরে দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। আমি সরকারের কাছে আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।” পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসাইন পুতু বলেন, “মানবিক কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু এখন তারাই আমাদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হত্যা, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র কারবার—সবই বেড়েছে। আবদুর রহিমের হত্যাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলার ধারা নির্ধারণ করা হবে এবং পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | আবদুর রহিম (রইক্ষা) |
| বয়স | ৪০ বছর |
| পিতার নাম | হাবিবুর রহমান |
| এলাকা | মুচনী নয়াপাড়া, টেকনাফ |
| ঘটনার সময় | ১৩ জানুয়ারি, দিবাগত রাত |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ |
| মরদেহ পাঠানো হয় | কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে |
এই হত্যাকাণ্ড আবারও টেকনাফে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সীমান্তবর্তী এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
