নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বার্ষিক ছুটির ভাতা পরিশোধের দাবিতে আহসান অ্যাপারেলসের শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় অবস্থিত এই পোশাক কারখানায় আন্দোলন শুরু হয় এবং পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে।
স্থানীয় শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে তাদের বার্ষিক ছুটির ভাতা প্রদানের দাবিতে সক্রিয় আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। কর্তৃপক্ষ ১০ জানুয়ারি ভাতা পরিশোধের জন্য একটি সময়সীমা ঠিক করেছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা বিক্ষোভে অংশ নেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে তাদের জীবনযাত্রা ও মৌলিক অধিকার সংকটে পড়তে পারে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ভেতরের কর্মপরিবেশ নিরাপদ ও অনুকূল নয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী তারা মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার নোটিশ জারি করেছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং উৎপাদন পরিবেশ বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জ জোনের পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) সেলিম বাদশা বলেন, “আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবিগুলো যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা স্থানীয় জনগণ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
অবস্থান, তারিখ ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| তারিখ | সময় | স্থান | ঘটনা | কর্তৃপক্ষ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | দুপুর | সিদ্ধিরগঞ্জ পুল, নারায়ণগঞ্জ | শ্রমিক আন্দোলন, কারখানা বন্ধ | আহসান অ্যাপারেলস ও স্থানীয় পুলিশ | অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা |
| ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | – | – | ভাতা পরিশোধের নির্ধারিত সময় শেষ | কারখানা কর্তৃপক্ষ | শ্রমিকদের দাবি পূরণ হয়নি |
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বার্ষিক ছুটির ভাতা তাদের মৌলিক অধিকার। তাঁরা এই বোনাস পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছেন। আন্দোলন ও কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে স্থানীয় এলাকার কিছু অংশে যানজট এবং সাময়িক অশান্তি দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক নজরদারির কারণে বড় ধরনের অশান্তি এড়ানো গেছে।
পোশাক শিল্প নারায়ণগঞ্জের অর্থনীতি ও স্থানীয় কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে না। বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দ্রুত সমাধান করা না হলে সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বর্তমানে শ্রমিক, পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা ও সমাধান প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, শিগগিরই একটি সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হবে এবং কারখানা পুনরায় সচল হবে।
