গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীতে এক গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একাধিক ব্যক্তির দ্বারা ‘সংঘবদ্ধ’ ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। শনিবার, ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ঘোনাপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়। ভুক্তভোগী মহেশপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের এক সন্তানের জননী। তিনি ইজিবাইকে করে তার বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন, সেই পথে হামলার শিকার হন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালে ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এ ছাড়া আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে মামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত সোমবার ট্র্যাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জকে নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী, অ্যাডভোকেট জাবের আলম মোল্লা, এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিদের তথ্য
| নাম | পিতার নাম | গ্রাম | বয়স (বছর) |
|---|---|---|---|
| ওহিদুজ্জামান তালুকদার | খবির তালুকদার | খায়েরহাট | ৪৫ |
| সান্টু মোল্লা | মৃত শাজাহান মোল্লা | ঘোনাপাড়া | ৪০ |
| অসিম ফকির | দুলু ফকির | — | ৩৫ |
| ইমন | মুন্নু | — | ২৮ |
| কালু | জাহাঙ্গীর | জঙ্গলমুকুন্দপুর | ২৬ |
এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ইজিবাইকে করে তারাইল গ্রামের বোনের বাড়ি যাচ্ছিলেন। ঘোনাপাড়া বাজারে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্বক একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে বিবস্ত্র করে, হাতে মাদক ও অস্ত্র ধরিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে এই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন।
কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “আদালতের আদেশ পেলেই মামলাটির সকল আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি।”
স্থানীয় জনসাধারণে এ ঘটনার পর উদ্বেগ ও নিন্দার ঝড় দেখা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী এবং নারী সংগঠনগুলো দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, ভবিষ্যতে এমন নির্মম ঘটনা রোধের লক্ষ্যে কাশিয়ানী থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
