উত্তরায় তিতাসের পাইপলাইনে দুর্ঘটনা: গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন, বাড়ছে দুর্ভোগ

রাজধানীর গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কে যেন বিপর্যয়ের মিছিল শুরু হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-র পাইপলাইন। এবার উত্তরার টঙ্গী ব্রিজের সন্নিকটে একটি শিল্প গ্রাহকের সার্ভিস লাইনের ‘ভাল্‌ভ’ উচ্চ চাপে ফেটে যাওয়ায় বড় ধরনের গ্যাস লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরার মূল পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি

মঙ্গলবার রাতে তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টঙ্গী ব্রিজের কাছে অবস্থিত একটি শিল্প সংযোগের নিয়ন্ত্রণকারী ভাল্‌ভটি হঠাৎ বিকল হয়ে ফেটে যায়। এর ফলে পাইপলাইন থেকে তীব্র বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে, যা ওই এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিতাসের কারিগরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই লাইনের ১২ ইঞ্চি ব্যাসের মূল সরবরাহ সংযোগটি ‘শাটডাউন’ করে দেয়।

বর্তমানে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে ক্ষতিগ্রস্ত ভাল্‌ভটি প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেরামত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই লাইনে গ্যাস সঞ্চালন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা

পাইপলাইনটি শাটডাউন করার ফলে উত্তরার বিশাল এলাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী জনপদগুলোতে রাতারাতি রান্নাবান্নাসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নিচে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাপ্রভাবের ধরণবর্তমান অবস্থা
সমগ্র উত্তরা (১-১৪ সেক্টর)সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নমেরামত কাজ চলমান
উত্তরখানআংশিক থেকে সম্পূর্ণ বন্ধগ্যাস নেই
দক্ষিণখানসরবরাহ বিঘ্নিতগ্যাস নেই
টঙ্গী ও সন্নিহিত শিল্প এলাকাচাপ অত্যন্ত কমআংশিক সচল
আশকোনা ও আজমপুরআংশিক বিচ্ছিন্নগ্যাস সংকট

এক মাসে তিন দুর্ঘটনা: সংকটে গ্রাহক জীবন

ঢাকার পাইপলাইনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা এখন সাধারণ মানুষের উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এক মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিয়মিত ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাগুলো তিতাসের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।

  • ৪ জানুয়ারি: তুরাগ নদীর তলদেশে প্রধান পাইপলাইনে ছিদ্র দেখা দেয়। এর প্রভাবে মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় এখনো গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়নি।

  • ১০ জানুয়ারি: গণভবনের সম্মুখভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাল্‌ভ ফেটে গেলে রাজধানীর বড় একটি অংশ অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার মতো গ্যাসহীন হয়ে পড়ে।

  • ১৩ জানুয়ারি: সর্বশেষ উত্তরার এই দুর্ঘটনাটি ঘটল, যা উত্তরের প্রবেশপথের গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট চলছে। খুচরা বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়েও সাধারণ মানুষ সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারছে না। পাইপলাইনের গ্যাসের এই ঘনঘন বিভ্রাট নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ এই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও, স্থায়ী সমাধানের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এখনো পাওয়া যায়নি।