বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে সন্তানের মৃত্যু

নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার মোহরকয়া হাটপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আট বছর বয়সী এক শিশুর করুণ মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়কে নাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশা চালক আল আমিন নিজ বাড়ির আঙিনায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দিচ্ছিলেন। চার্জ দেওয়ার সময় হঠাৎ বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তারের সঙ্গে আটকে পড়েন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করেন। তার আর্তনাদ শুনে ঘরের ভেতরে থাকা তার ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ দ্রুত বাইরে ছুটে আসে।

মাত্র আট বছরের শিশু আব্দুল্লাহ বাবার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে কোনো কিছু না ভেবেই তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়। কিন্তু বিদ্যুতের তারে হাত লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতরভাবে আহত হয় এবং মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় শিশুটির মা আসমা খাতুন দ্রুত উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে বাড়ির প্রধান বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে আল আমিনের জীবন রক্ষা পায়।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আহত আল আমিন ও গুরুতর অবস্থায় থাকা আব্দুল্লাহকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার বাবাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নিহত আব্দুল্লাহ স্থানীয় একটি শিশু শিক্ষালয়ের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে অসহনীয় শোক। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।

স্থানীয়দের মতে, বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যাটারি চালিত যান চার্জ দেওয়ার সময় যথাযথ সতর্কতা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা মনে করেন, বিদ্যুৎ নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—

বিষয়বিবরণ
দুর্ঘটনার স্থানমোহরকয়া হাটপাড়া, লালপুর, নাটোর
সময়সোমবার সন্ধ্যা
নিহতআব্দুল্লাহ, বয়স ৮ বছর
আহতআল আমিন (পিতা)
দুর্ঘটনার কারণবিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া
উদ্ধারকারীপরিবার ও স্থানীয়রা
চিকিৎসা স্থানলালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, নিয়মিত তদারকি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনা একদিকে যেমন একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি, অন্যদিকে তেমনি বিদ্যুৎ ব্যবহারে অসতর্কতার ভয়াবহ পরিণতির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।