ময়মনসিংহ নগরীর দিগারকান্দা এলাকায় এক গ্রেফতারকৃত আসামিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় জড়িতরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
ছিনিয়ে নেওয়া আসামি আরিফুল ইসলাম, সাগর আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় মারামারি মামলার এজাহারভুক্ত। ঘটনাস্থল দিগারকান্দা ফিশারি মোড়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে আরিফুল ও তার সহযোগীরা স্থানীয় রাসেল নামের ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি অভিযান:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা তারিখ | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ |
| সময় | বিকেল ৪টা |
| স্থান | দিগারকান্দা ফিশারি মোড়, ময়মনসিংহ |
| আসামি | আরিফুল ইসলাম, সাগর আলীর ছেলে |
| মামলা | মারামারির অভিযোগে মামলা, কোতোয়ালি মডেল থানা |
| আহত পুলিশ | ৫ জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি |
| হামলায় ব্যবহার | লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র |
| গ্রেফতার | আরিফুলের বাবা সাগর আলী আটক, অভিযানের মধ্য দিয়ে অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে |
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদ-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল বিকেলে আরিফুলকে গ্রেফতার করতে গেলে আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ সদস্যদের এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার পর হামলাকারীরা আরিফুলকে হাতকড়াসহ তুলে নিয়ে পালায়।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. নাজমুস সাকিব জানান, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাব ও সেনাবাহিনী টহল দিয়েছে। এছাড়া, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফুলের বাবা সাগর আলীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ হামলায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
ময়মনসিংহের স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন, কারণ এই ধরনের সশস্ত্র হামলা পুলিশের ওপর সহিংসতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুলিশের কাছে আশা করা হচ্ছে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনা হবে।
