ইরানে চলমান বিক্ষোভের তীব্রতায় দেশটি এখন দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখোমুখি। মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই হাজারেরও বেশি মানুষ এই বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছে। কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ইরানে বিক্ষোভের শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর, মূলত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে। এটি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হচ্ছে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জন্য। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটি নজিরবিহীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা অভিযান এবং ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় ১০,৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তেহরানের বাসিন্দারা বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত। এক ব্যক্তি বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছেন, “শুক্রবার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। অসাধারণ ভিড় আর গোলাগুলির শব্দে রাস্তাগুলো দগ্ধ মনে হচ্ছিল।” আর একজন সাংবাদিক বলছেন, “এখন রাস্তায় নামা মানে মৃত্যুকে আহ্বান করা।”
ইরানের সংকট শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, আন্তর্জাতিক দিক থেকেও চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য, মাত্র সাত মাস আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য, এই পরিস্থিতি ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছে।
নিচের টেবিলে এ বিক্ষোভ সম্পর্কিত কিছু মূল তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিক্ষোভের শুরু | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| মৃত্যু সংখ্যা (ইরানি কর্মকর্তা অনুসারে) | প্রায় ২০০০ |
| মৃত্যু সংখ্যা (মানবাধিকার সংস্থা অনুযায়ী) | বিক্ষোভকারী: ৪৯০, নিরাপত্তা বাহিনী: ৪৮ |
| গ্রেপ্তার সংখ্যা | ১০,৬০০+ |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | কড়া অভিযান, ইন্টারনেট প্রায় বন্ধ |
| আন্তর্জাতিক চাপ | যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি, সামরিক প্রেক্ষাপট |
এই পরিস্থিতি ইরানের জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে এক ক্রান্তিকালীন মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ, জনগণ প্রতিবাদ, এবং বাইরের চাপ—এই তিনটির সমন্বয় দেশটির ভবিষ্যতকে নির্ধারণ করবে।
