বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ বয় ব্যান্ড ‘ওয়ান ডিরেকশন’-এর জনপ্রিয় সদস্য লুই টমলিনসন অতি সম্প্রতি সংগীত জগতের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি এবং দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড ‘বিটিএস’-এর অভূতপূর্ব সাফল্য নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। বিলবোর্ড ম্যাগাজিনের সর্বশেষ প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্ণনা করেছেন, কীভাবে ওয়ান ডিরেকশনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও রেকর্ডগুলো ধীরে ধীরে বিটিএস-এর দখলে চলে গেছে। লুইয়ের মতে, এটি দেখা কিছুটা মন খারাপের হলেও সংগীত শিল্পের স্বাভাবিক বিবর্তন হিসেবে তিনি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন।
বিটিএসের রেকর্ড জয় ও লুইয়ের প্রতিক্রিয়া
বিলবোর্ডের নির্বাহী পরিচালক জেসন লিপশুটজের সাথে আলাপকালে লুই টমলিনসন কৌতুকপূর্ণ স্বরে বলেন, “একটা সময় ছিল যখন বিটিএস জনপ্রিয়তার চূড়ায় উঠছিল। তখন আমি লক্ষ্য করতাম, প্রতিবার টুইটারে (বর্তমানে এক্স) লগ-ইন করলেই দেখতাম ওয়ান ডিরেকশনের কোনো না কোনো রেকর্ড তারা ভেঙে ফেলেছে। তা হতে পারে দ্রুততম সময়ে অ্যালবাম বিক্রি কিংবা অন্য কোনো মাইলফলক।” তিনি আরও যোগ করেন যে, নিজের গড়া রেকর্ড হাতছাড়া হওয়া কিছুটা কষ্টের হলেও তিনি বিটিএস-এর প্রতি কোনো ঈর্ষা পোষণ করেন না। কারণ সংগীত জগত সবসময় সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং নতুনদের জন্য জায়গা করে দেয়।
ওয়ান ডিরেকশন এবং বিটিএস-এর জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপট ও বৈচিত্র্য নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
সংগীতের বিবর্তন: ওয়ান ডিরেকশন বনাম বিটিএস
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ওয়ান ডিরেকশন (One Direction) | বিটিএস (BTS) |
| সাফল্যের শিখর | ২০১০-এর দশকের প্রথমার্ধ। | ২০১৭-বর্তমান সময়কাল। |
| স্টাইল ও প্রেজেন্টেশন | ক্যাজুয়াল পোশাক এবং নিজস্ব স্বকীয়তা। | নিখুঁত নাচ, ভিজ্যুয়াল এবং রঙিন কোরিওগ্রাফি। |
| রেকর্ড ভাঙার ধরণ | ফিজিক্যাল সেলস ও রেডিও প্লে। | ডিজিটাল স্ট্রিমিং ও দ্রুততম ভিউয়ের রেকর্ড। |
| লুইয়ের পর্যবেক্ষণ | গতানুগতিক বয় ব্যান্ডের ছাঁচ ভাঙা। | ওয়ান ডিরেকশনের গড়া প্রায় সব রেকর্ড জয়। |
| মূল প্রভাব | পাশ্চাত্য পপ সংগীতে বিপ্লব। | কে-পপকে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষে নিয়ে আসা। |
ওয়ান ডিরেকশনের স্বকীয়তা ও বয় ব্যান্ড সংস্কৃতি
টমলিনসন মনে করেন, ওয়ান ডিরেকশনের আগে বয় ব্যান্ডগুলোর একটি নির্দিষ্ট ‘ছাঁচ’ বা গণ্ডি ছিল। আগেকার ব্যান্ডগুলো একই রকম পোশাক এবং সুনির্ধারিত নাচের মুদ্রা অনুসরণ করত। কিন্তু ওয়ান ডিরেকশন সেই প্রথা ভেঙে একটি মুক্ত ও সহজ ঘরানা তৈরি করেছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে অনেক ব্যান্ড ওয়ান ডিরেকশনের অভাব পূরণ করার চেষ্টা করলেও তাদের মতো বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা তৈরি করা সত্যিই বিরল।
ব্যক্তিগত শোক ও বর্তমান বন্ধুত্ব
এই সাক্ষাৎকারটি লুইয়ের নতুন একক অ্যালবাম ‘হাউ ডিড আই গেট হেয়ার?’ (How Did I Get Here?) প্রকাশের ঠিক প্রাক্কালে প্রকাশিত হলো, যা আগামী ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তবে গত বছরটি লুই এবং তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী হ্যারি স্টাইলস, নিয়াল হোরান ও জায়ন মালিকের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০২৪ সালের অক্টোবরে লিয়াম পেইনের আকস্মিক মৃত্যু তাঁদের সম্পর্কের গভীরতাকে আবারও নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। লুই জানান, লিয়ামের মৃত্যু তাঁদের সবাইকে মানসিকভাবে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। লুইয়ের মতে, ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত কথা না হলেও তাঁদের মধ্যকার টান আগের মতোই অটুট রয়েছে।
সংগীতের রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এই খেলায় লুই টমলিনসন এখন নিজের একক ক্যারিয়ার ও নতুন গানের মাধ্যমে ভক্তদের হৃদয়ে নতুন জায়গা করে নিতে উন্মুখ। ওয়ান ডিরেকশনের সোনালী অতীতকে সম্মান জানিয়েই তিনি তাঁর নতুন সংগীত যাত্রায় এগিয়ে যেতে চান।
