ইরানে গতকাল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। এই শোক কর্মসূচি তাদের স্মরণে ঘোষণা করা হয়েছে, যারা দেশের প্রতিরোধ আন্দোলনের সময় নিহত হয়েছেন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের দখলের বিরুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। শোক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শহীদদের সম্মান এবং দেশব্যাপী একতা প্রদর্শন করা।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে কীভাবে জঙ্গি সংগঠন দায়েশ (আইএসআইএল/আইএসআইএস) সাধারণ মানুষ, বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক এবং পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই সহিংসতার ফলে বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “আমরা আমাদের শহীদদের স্মরণে শোক প্রকাশ করছি এবং এই বর্বর সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছি।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সরকার নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুতই ইন্টারনেট পুনঃসংযোগ চালু করার কাজ করছে। তিনি জানান, ধাপে ধাপে দেশের দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর ইন্টারনেট সংযোগও পুনঃস্থাপন করা হবে।
একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপকে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরাগচি বলেন, “বিদেশি শক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলে, যা জনগণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য মারাত্মক।”
জাতীয় বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে, সোমবার ইরান সরকার চলমান সহিংস বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে জনসাধারণের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রোববার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-কে বলেন, “সরকার অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত, তবে যারা অশান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের কোনো ছাড় থাকবে না।”
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ঘটনা ও সরকারি প্রতিক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| শোকের মেয়াদ | ৩ দিন |
| শোক পালনের কারণ | প্রতিরোধ আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণ |
| পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষনা | দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ পুনঃস্থাপন, দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের সংযোগ চালু |
| প্রেসিডেন্টের মন্তব্য | অর্থনৈতিক সমাধান প্রস্তুত, দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা |
| সরকারের আহ্বান | জাতীয় বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জন্য সমর্থন |
সংক্ষেপে, ইরানের এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুধুমাত্র শহীদদের স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সরকারের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবেও গণ্য হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্য দিয়ে সরকার জনগণকে একত্রিত করে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখার সংকল্প প্রকাশ করেছে।
