বাংলাদেশ ব্যাংক এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানিকারীদের জন্য ঋণ সুবিধা আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং কার্যকর করেছে। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এলপিজি আমদানিতে ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকি বা ক্রেতার ঋণ সুবিধা পাবেন। এটি আগে শুধুমাত্র শিল্পজাত কাঁচামালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয়, পরে সিলিন্ডারে ভরে বাজারজাত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মজুত, সিলিন্ডারজাতকরণ, পরিবহন ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশি সময় লাগে। তাই এলপিজিকে শিল্পজাত কাঁচামালের মতো গণ্য করে বাণিজ্যিক ঋণের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা আমদানির খরচ ও সময়ের চাপ কমিয়ে সরাসরি বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে।
বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিধিমালা অনুযায়ী, শিল্পজাত কাঁচামাল আমদানিতে সরবরাহকারী বা ক্রেতার ঋণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত সময়সীমা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক এই সুবিধা এলপিজি আমদানিতেও সম্প্রসারণ করেছে, যা দেশের গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ারস ক্রেডিট (Buyer’s Credit) বা ক্রেতার ঋণ সংগ্রহে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করবে। এছাড়া অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে ব্যবসায়ীরা ঋণের প্রক্রিয়া দ্রুততরভাবে সম্পন্ন করতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি আমদানিতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করবে।
নিচের টেবিলে নতুন সুবিধাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| সুবিধার ধরন | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| সর্বোচ্চ ঋণকাল | ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকি/ক্রেতার ঋণ |
| প্রযোজ্য এলপিজি ধরণ | বাল্ক আকারে আমদানি, পরে সিলিন্ডারে ভরাট |
| ঋণ প্রক্রিয়া | শিল্পজাত কাঁচামাল হিসেবে গণ্য |
| আর্থিক সহায়তা | বিদেশি ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ারস ক্রেডিট |
| বিল ডিসকাউন্টিং | অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে |
| উদ্দেশ্য | এলপিজি আমদানির মজুত, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ সহজ করা |
| সম্ভাব্য প্রভাব | গ্যাস সরবরাহে ধারাবাহিকতা, শিল্প ও গৃহস্থালির খরচ কমানো |
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত দেশে এলপিজির সরবরাহ স্থিতিশীলতা বাড়াবে, আমদানি ব্যয় কমাবে এবং ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। বিশেষ করে গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে সরবরাহ চেইনে উল্লেখযোগ্য সুবিধা নিশ্চিত হবে। এই নতুন ঋণ ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস, সরবরাহ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করবে।
