ট্রাম্পের হুমকির জবাব: যুদ্ধ চাই না, কিন্তু প্রস্তুত—আরাগচি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ চায় না, তবে কোনো প্রয়োজনে আত্মরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শনিবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাংবাদিকদের সামনে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরান শান্তি ও কূটনীতিতে বিশ্বাসী, কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।

আরাগচি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডকে উসকে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি হস্তক্ষেপকে সুবিধাজনক করতে মাঝে মাঝে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। “এ ধরনের হুমকি ও বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে,” তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার হাতে “খুব শক্তিশালী বিকল্প” রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরানের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। তবে তেহরান এ ধরনের বক্তব্যকে সরাসরি চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি। সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় সীমিত পর্যায়ের সংলাপ এখনও চলমান রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন থেকে একের পর এক পরস্পরবিরোধী বার্তা আসছে, যা আস্থার সংকট তৈরি করছে।

বাঘাই আরও বলেন, “দেশের চলমান সহিংসতা ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা।” তিনি দাবি করেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার পেছনে বিদেশি সশস্ত্র শক্তির সম্পৃক্ততার শক্ত প্রমাণ ইরানের হাতে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফোরামে উপস্থাপন করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন—“ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে প্রয়োজনে আত্মরক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

নিচের সারণিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়ইরানের অবস্থানযুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুদ্ধযুদ্ধ চায় না, তবে প্রস্তুতসামরিক বিকল্পের হুমকি
আলোচনাপারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সংলাপচাপের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত
যোগাযোগসুইজারল্যান্ডের মাধ্যমে সীমিত যোগাযোগবিরোধী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ
অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিবিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগমানবাধিকার ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

সব মিলিয়ে, তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—চাপ ও হুমকির রাজনীতি নয়, বরং সম্মানজনক কূটনীতি ও সংলাপই মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনের একমাত্র পথ।