হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রান্নার ঘটনায় দুই নার্সকে বরখাস্ত করা হলো

ফেনী জেলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) রান্নার ঘটনায় দুই নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পৃথক আদেশে রবিবার এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সাময়িক বরখাস্তপ্রাপ্তরা হলেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী মণ্ডল এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদার। কল্পনা রানী মণ্ডলের বাড়ি বরিশাল, আর রানী বালার বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। বরখাস্তাদেশে মূলত তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:

  1. লেবার ওয়ার্ডের অস্ত্রোপচার কক্ষে গ্যাসের চুলায় রান্না করা, যা দায়িত্বহীন ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ।

  2. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ।

  3. নার্সিং পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া।

বরখাস্তাদেশে বলা হয়েছে, বিভাগীয় মামলা দায়ের ও মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির স্বার্থে দুজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এই সময় দুজনকে বিধিমতো খোরপোশ ভাতা প্রদান করা হবে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজারসহ দুজনের বরখাস্তের আদেশ আমরা হাতে পেয়েছি। আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।”

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার সকাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে দেখা যায় দুই নার্স অস্ত্রোপচার কক্ষে শীতের পিঠা (খোলাজা পিঠা) তৈরি করছেন। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে রান্নার উপকরণ, থালা-বাসন ও হাঁড়ি-পাতিল, যখন পাশের কক্ষে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার চলছিল এবং রোগীর স্বজনরাও ওটিতে উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালের সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় লেবার ওয়ার্ড অবস্থিত। ওয়ার্ডের অস্ত্রোপচার কক্ষে জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে এবং পানি গরম করার জন্য একটি গ্যাসের চুলা ব্যবহৃত হয়। দায়িত্বশীল নার্সরা নিয়মিত এই চুলাতেই খাবার তৈরি করে থাকেন, যা নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও দায়িত্বসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

কমিটি সদস্যপদবি / ভূমিকা
মো. জালাল হোসেনসহকারী পরিচালক, আহ্বায়ক
শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয়আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), সদস্যসচিব
মো. আদনান আহমেদসার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সদস্য

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান দায়িত্বহীন আচরণের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।