লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চার মাস পলাতক থাকার পর আবদুর রহিম নামের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকে নারী ও শিশু আদালত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার, ১১ জানুয়ারি, আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে বিচারক সাদেকুর রহমান তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে উত্তর রায়পুর গ্রামের আবদুর রহিম তার বাসায় ওই স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। ঘটনার সময় তিনি ছাত্রীর ভাইকে দোকান থেকে চিপস আনতে পাঠান এবং প্রাইভেট পড়ানোর অজুহাত দেখিয়ে ছাত্রীকে নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে ছাত্রী এই ঘটনা বাড়িতে গিয়ে মায়ের কাছে খুলে বলেন। তার মা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শের পর রাতেই রায়পুর থানায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে এর আগে আরও কয়েকবার ছাত্রীরা যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহির বলেন, “আমরা কয়েক মাস আগে থেকেই অভিযোগ শুনছিলাম। ঘটনার প্রমাণ হিসেবে মোবাইল ফোনেও এভিডেন্স রয়েছে।”
অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এটি একটি ষড়যন্ত্র।” তার স্ত্রী আরও যোগ করেন, “৫ বছরের সংসারে আমি এমন কিছু দেখিনি। তিনি কখনো এমন কাজ করেন না।”
রায়পুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, চার মাস পলাতক থাকার পর আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে বিচারক অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠান। ঘটনার রাতেই মামলা দায়ের করা হয় এবং বর্তমানে চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট সহজে বোঝার জন্য নিচে সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্যবিবরণ | বিস্তারিত |
|---|---|
| অভিযুক্তের নাম | আবদুর রহিম |
| বয়স | ৪০ বছর |
| পেশা | প্রধান শিক্ষক, বেগম রোকেয়া স্কুল, রায়পুর |
| রাজনৈতিক পরিচয় | স্থানীয় জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক |
| অভিযোগ | চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানি |
| মামলা দায়ের তারিখ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
| আত্মসমর্পণ ও কারাগার | ১১ জানুয়ারি ২০২৬, নারী ও শিশু আদালত |
| পরিবার | বিবাহিত, দুই সন্তান ও দ্বিতীয় স্ত্রী |
স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনার প্রতিক্রিয়া তীব্র। তারা জানিয়েছেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” পুলিশ ও আদালত তদন্তে তৎপর, এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণসম্বলিত চার্জশিট আদালতে পেশ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক নেতাদের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি দিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
