জনপ্রিয় লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রামীণ প্রবাদের সেই ‘সাদা কুকুরের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন, যে ভাত খাওয়ার পর ভাতদাতাকে কামড়ে দাঁত পরিষ্কার করে। মহিউদ্দিনের মতে, দেশের জনগণকে এই ধরনের প্রতারণামূলক ও ধোঁকাবাজি থেকে রক্ষা করা তার দায়িত্ব।
মহিউদ্দিন আরও জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের সময় বিএনপি চেয়ারম্যাঁন তারেক রহমান কিভাবে দলীয় কর্মী, জেলা ও থানা পর্যায়ের ছাত্রদল এবং যুবদলের সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন, তার বিস্তারিত তথ্য তিনি ব্যক্তিগত সূত্র থেকে পেয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া জনগণকে সত্য তথ্য জানানোর জন্য প্রকাশ করছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, জুলাই ২০২৪-এ আন্দোলনের শুরুতে বিএনপি ছাত্রদল ও যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঢাকাকে কেন্দ্র করে ১০টি জোনে বিভক্ত করে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। প্রতিটি জোনে জোন কমান্ডার ও সদস্যদেরকে ঢাকার আশেপাশের জেলা থেকে ছাত্র ও কর্মী সংগ্রহ, তাদের খাদ্য ও পানি সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মির্জা আব্বাস ৮ ট্রাক পানি এবং দুই ট্রাক খাবার বিতরণ করেন। পরবর্তীতে আরও কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মহিউদ্দিন উল্লেখ করেন, আন্দোলনের সময় জেলা ও থানা পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের ওপর গুলি চালায়নি। তবে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে কিছু পুলিশ অতিরিক্ত কর্তৃত্ব প্রয়োগের চেষ্টা করলেও জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় সমন্বয়কারীর নির্দেশে তা নিয়ন্ত্রিত হয়। ছাত্রদের সুরক্ষায় তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদেশী কর্মকর্তাদেরও চিঠি লিখেছিলেন।
জলবায়ু, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার দায়িত্বে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা নিয়োজিত ছিলেন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র ও দলীয় কর্মীদের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সংগঠিত হয়েছিল।
নিচের টেবিলে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকালে বিএনপির সমন্বয় ও উদ্যোগের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| বিষয় | প্রধান কার্যক্রম | দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি/দল |
|---|---|---|
| ঢাকা জোন বিভাজন | ১০টি জোনে জেলা ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়িত্ব দেওয়া | জোন কমান্ডার ও সদস্য |
| খাদ্য ও পানি সরবরাহ | ট্রাকের মাধ্যমে খাবার ও পানি বিতরণ | মির্জা আব্বাস ও দলীয় কর্মী |
| জেলা ও থানা সমন্বয় | স্থানীয় নেতাদের প্রস্তুতি ও সমন্বয় | জেলা কমিটি ও ছাত্রদল/যুবদল |
| আন্দোলনকালীন নিরাপত্তা | পুলিশ দ্বারা ছাত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত | জেলা পুলিশ সুপার ও ব্যাচমেটদের সমন্বয় |
| চিকিৎসা সেবা | আহতদের চিকিৎসা ও ক্লিনিক/হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা | বিএনপিপন্থি চিকিৎসক ও শিক্ষক |
| ঢাকায় প্রবেশ ও লজিস্টিক | লাখ লাখ কর্মী ও ছাত্রদের ঢাকায় আসা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা | রাকিব, নাসির, আমান উল্লাহ ও স্থানীয় দলীয় কর্মী |
মহিউদ্দিন মোহাম্মদ এই তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে অভ্যুত্থানকালে ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং সংগঠনের কার্যক্রমের গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও দেশের ও জনগণের স্বার্থে সত্য তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করবেন।
