সিরাজগঞ্জে পৃথক দুটি ঘটনায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেলার বেলকুচি উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং জেলা সদরে এক সাংবাদিকের বাড়িতে পেট্রল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের আঁধারে সংঘটিত এসব ঘটনায় প্রাণহানি না হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়াহিয়ার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। মো. ইয়াহিয়া বর্তমানে রাজনৈতিক মামলার কারণে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে ছিলেন স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের ঘটনা ঘটলেও দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। তবে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
ঘটনার পর মো. ইয়াহিয়া অভিযোগ করেন, এটি নিছক অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ আগুন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও মামলার জের ধরেই দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলে মনে করছেন।
অন্যদিকে, একই দিনে রাত প্রায় ৯টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের দিয়ারধানগড়া মহল্লায় সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম ইন্নার বাড়িতে পেট্রল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। শরিফুল ইসলাম ইন্না সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং এনটিভি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে দিয়ারধানগড়া ও সয়াগোবিন্দ (ভাঙ্গাবাড়ী) মহল্লার মধ্যে বিরোধ ও দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে আসছে। শনিবার সন্ধ্যায় থানায় বসে উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা হলেও রাতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক ইন্নার ভাষ্যমতে, রাতের বেলা তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন দুর্বৃত্ত এসে তার বাড়ি লক্ষ্য করে দুটি পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে। পাশাপাশি সামনের আরও দুটি বাড়িতেও বোমা ছোড়া হয়। তবে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ফরিদ উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নিচের টেবিলে দুটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| ঘটনা | স্থান | সময় | লক্ষ্যবস্তু | ক্ষয়ক্ষতি |
|---|---|---|---|---|
| অগ্নিসংযোগ | দক্ষিণপাড়া, বেলকুচি | রাত ২টা | আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি | বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে |
| পেট্রল বোমা নিক্ষেপ | দিয়ারধানগড়া, সদর | রাত ৯টা | সাংবাদিকের বাড়ি | বড় ক্ষতি হয়নি |
এই দুটি ঘটনা সিরাজগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনলে এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
