আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। মামলার প্রসিকিউশন, অর্থাৎ চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামিপক্ষ সচেষ্টভাবে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে চেষ্টা করছে।
বিচারিক প্যানেলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিনজন বিচারকের উপস্থিতিতে এই আদেশ প্রদান করা হয়। প্রসিকিউটরের বক্তব্যের পর বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অনুমান করা যাবে না যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসবে। এ ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য শুনানি প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারবে না।” এর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল নিশ্চিত করেছে যে বিচার কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে যুক্ত করা যাবে না।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড তুলে ধরার মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আবেদন করেন। জুনায়েদ আহমেদ পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ উল্লেখ করেন, কারাগারে আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ বহন করা অনুমোদিত হয়নি। তিনি জানান, “জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি ভিডিও ফুটেজের মধ্যে কয়েকটি ভিডিও এখনও ওপেন হয়নি। এজন্য আমরা আগামী রোববার, ১৭ জানুয়ারি, শুনানি পরিচালনার আবেদন করছি।”
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আরও বলেন, “আসামিরা মনে করছে, নির্বাচন হলে বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এজন্য তারা পরিকল্পিতভাবে প্রক্রিয়া ধীর করছেন।” অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ফর্মাল চার্জ অনেক বড় হওয়ায় তা পড়া ও বোঝার জন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন। আদালত সবার প্রতি দয়াশীল হয়ে শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
নিচের টেবিলে মামলার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| আসামি | সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনায়েদ আহমেদ পলক |
| অভিযোগ | মানবতাবিরোধী অপরাধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ইন্টারনেট বন্ধসহ গণহত্যা |
| আদালত | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ |
| বিচারিক প্যানেল | ৩ সদস্য, চেয়ারম্যান: বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার |
| শুনানি তারিখ | আসল শুনানি: সোমবার, পরবর্তী শুনানি: বৃহস্পতিবার |
| চিফ প্রসিকিউটর | মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম |
| আসামিপক্ষের দাবি | ভিডিও ফুটেজ যাচাই ও কারাগারে সাক্ষাৎ সুবিধা |
| ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ | অভিযোগ গঠনের শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত |
ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে আদালত রাজনৈতিক অনুমান বা নির্বাচন সংক্রান্ত অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যকে বিচার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে দিচ্ছে না। একই সঙ্গে আদালত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সময়মতো বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করার প্রতি জোর দিয়েছে।
