ত্রিপুরায় পূজা-মেলা চাঁদা দাবিতে তীব্র সহিংসতা, ইন্টারনেট বন্ধ

ত্রিপুরার উনকোটি জেলায় পূজা ও স্থানীয় মেলার চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটেছে। শনিবার কুমারঘাট ও শিমুলতলা এলাকায় এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি ও দোকান পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ত্রিপুরা সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় কাঞ্চনবাড়ি প্রধান সড়কের ভৈরব থালির কাছে কাঠবোঝাই গাড়ির মালিক মোসাব্বির আলীর সঙ্গে মেলা কমিটির সদস্যদের চাঁদা দাবির কারণে। কথাকাটাকাটির পর দুই পক্ষের মধ্যে ধীরে ধীরে মারামারি শুরু হয় এবং তা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় রূপ নেয়। শিমুলতলা এলাকায় কিছু বাড়ি, কাঠের দোকান ও উপাসনালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পুলিশ ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের ফলে বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লেগে গিয়েছে, রাস্তাঘাটে যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জনতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনী—যেমন ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)—মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং ড্রোন নজরদারি চালিয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

তারিখ ও সময়স্থানসংঘর্ষের কারণক্ষয়ক্ষতিআহত ব্যক্তিগ্রেফতার
১০ জানুয়ারি ২০২৬কুমারঘাট, ফটিকরয় থানা এলাকাপূজা ও মেলার চাঁদা দাবিকয়েকটি দোকান ও বাড়ি পুড়ে গেছে, কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত৫–৬ জন৮ জন

পুলিশ সুপার আভিনাশ রাই জানিয়েছেন, “কয়েকজন যুবক কিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং ফ্ল্যাগ মার্চ চলছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত।”

ত্রিপুরা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ফটিকরয় এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ শান্ত এবং জনগণকে উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, আসন্ন ভৈরব মেলার আগে এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে নজরদারি ও টহল অব্যাহত থাকবে। ঐতিহ্যবাহী ভৈরব মেলা ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা সচেতন হয়ে সামাজিক সঙ্গম ও ধর্মীয় উৎসবকে সহমর্মিতার সাথে উদযাপনের আহ্বান জানাচ্ছেন। নিরাপত্তা বাহিনী জনসাধারণকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।