বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ তারকা বিলি আইলিশ আবারও তাঁর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি মিনিয়াপলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) বা ‘আইস’ (ICE)-এর এক অভিযানে রেনি নিকোল গুড নামে এক নারী নিহতের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ৯ বারের গ্র্যামি বিজয়ী এই শিল্পী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আইস-কে একটি ‘রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করে সংস্থাটি বিলুপ্ত করার ডাক দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রেনি গুড হত্যাকাণ্ড
গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে একটি অভিবাসন বিরোধী অভিযান পরিচালনা করার সময় আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নিহত হন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) দাবি করেছিল যে, রেনি গুড তাঁর গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ভিডিও অনুযায়ী, রেনি গুড কর্মকর্তাদের থেকে বিপরীত দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যা সরকারি দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এমনকি ওভাল অফিসে বসে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ভিডিওটি দেখার পর খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একে একটি ‘ভয়াবহ দৃশ্য’ বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও বিলি আইলিশের প্রতিবাদের সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
আইস বিতর্ক ও বিলি আইলিশের রাজনৈতিক অবস্থান
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত প্রেক্ষাপট ও তথ্য |
| নিহত ব্যক্তি | রেনি নিকোল গুড (বয়স ৩৭ বছর)। |
| অভিযুক্ত সংস্থা | ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)। |
| বিলি আইলিশের সংজ্ঞা | আইস একটি ‘ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’। |
| মূল দাবি | আইস বিলুপ্ত করা (Abolish ICE) এবং এর ফাণ্ড বন্ধ করা। |
| বিতর্কিত তথ্য | গত এক বছরে আইস হেফাজতে ৩২ জনের মৃত্যু। |
| ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া | ভিডিও দেখার পর ঘটনাটিকে ‘হরিবল’ বা ভয়াবহ আখ্যা। |
| আইলিশের পূর্ব রাজনীতি | ২০২৪ নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন ও ট্রাম্পের বিরোধিতা। |
সামাজিক মাধ্যমে আইলিশের তীব্র প্রতিবাদ
রেনি গুড হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর বিলি আইলিশ তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একের পর এক কয়েকটি পোস্ট শেয়ার করেন। প্রথম পোস্টে তিনি আইস-কে ‘পরিবার বিচ্ছিন্নকারী’ ও ‘নিরীহ মানুষ হত্যাকারী’ সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন। পরবর্তী পোস্টে তিনি মার্কিন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরা নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেস প্রতিনিধিদের ফোন করে আইস-এর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থায়ন বন্ধের (Defund) দাবি জানান। তিনি সরাসরি দাবি তুলেছেন যে, যে কর্মকর্তা রেনি গুডকে গুলি করেছেন, তাকে যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হয়।
অভিবাসন নীতি ও ভবিষ্যৎ সংকট
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে গত এক বছর ধরে আইস-এর কার্যক্রম নিয়ে আমেরিকায় তীব্র মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। বিলি আইলিশ দীর্ঘকাল ধরে ট্রাম্পের নীতিগুলোর বিরোধিতা করে আসছেন। এর আগেও তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে আইস-এর অভিযানের নিন্দা জানিয়েছিলেন। রেনি গুড হত্যাকাণ্ডের পর নতুন করে শুরু হওয়া ‘অ্যাবলিশ আইস’ আন্দোলন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরণের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এখন আইস-এর গত এক বছরের হেফাজতে থাকা মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে তদন্তের জোর দাবি জানাচ্ছে।
