ভিয়েতনামে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থার আওতায় নতুনভাবে সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় প্রত্যর্পণ চালু করা হবে। এর আওতায় এবার নির্বাহিত হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য এবং ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বার্ধক্যভাতা গ্রহীতাদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা খরচ ১০০% ফেরত পাওয়া যাবে।
ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সম্প্রসারণ জাতীয় সংসদের ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গৃহীত একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে। সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের দুর্বল ও সীমিত অর্থনৈতিক ক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা এবং তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত আর্থিক বোঝা হ্রাস করা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৬ জানুয়ারি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে, যাতে ভিয়েতনাম সোশ্যাল সিকিউরিটি (বিনিয়োগ ও আর্থিক দায়িত্বে) এবং দেশের সকল প্রাদেশিক ও মহানগর স্বাস্থ্য বিভাগ এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসমূহ নতুন যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বেনিফিট কোড দ্রুত আপডেট করতে পারে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাহিত হতদরিদ্র পরিবারের স্বাস্থ্য বীমা কার্ডধারীদের চিকিৎসা ব্যয়ের প্রতিপূরণ হার ৯৫% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০০% হবে। এর ফলে তারা আর কোন অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করেই হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারবে।
নিচের টেবিলে সম্প্রসারিত স্বাস্থ্য বীমার মূল সুবিধাসমূহের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| গ্রাহক শ্রেণি | বয়স/শর্ত | পূর্বের ফেরত হার | নতুন ফেরত হার | কার্যকর তারিখ |
|---|---|---|---|---|
| হতদরিদ্র পরিবার | সকল বয়স | ৯৫% | ১০০% | ১ জানুয়ারি ২০২৬ |
| বার্ধক্যভাতা প্রাপক | ৭৫+ | ৯৫% | ১০০% | ১ জানুয়ারি ২০২৬ |
ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা অ্যাক্সেস বৃদ্ধি করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের জন্য এটি একটি বড় আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সকল প্রাদেশিক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নতুন নিয়মাবলী কার্যকর করার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত, সমবায়মুখী ও জনগণমুখী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
