বলিউড অভিনেত্রী সানি লিওনের বাংলাদেশের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছিল। সম্প্রতি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তটি জানায়। এরপরও সানি লিওন চলে এসেছেন ঢাকায়! আর তথ্যটি সানি নিজেই জানিয়েছেন।
গত ২ মার্চ তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সানি লিওনের বাংলাদেশে আসার অনুমতি দেওয়া হয়। একটি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য তিনি ও ভারতের ১০ জন অভিনয়শিল্পীকে ওই অনুমতি দেওয়া হয়। তবে গত ৯ মার্চ আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সানির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়।
এর কারণ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ভারতীয় যে অভিনয়শিল্পী দলকে ভিসা দেওয়া হয়, তাদের একজন ছিলেন সানি-লিওন। কিন্তু তার সানি-লিওন নামটি গোপন করে মার্কিন নাগরিক পরিচয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এভাবে পরিচয় গোপন করে অনুমতি নেওয়া আইন-বহির্ভূত। এটি যখন মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে, তখন তার বাংলাদেশে কাজের অনুমতি বাতিল করা হয়।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে একটি ইভেন্টে অংশ নিতে সানি-লিওনের বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। ওই সময় বাংলাদেশের ধর্মীয় সংগঠনগুলো প্রবল আপত্তি তুললে আয়োজক কর্তৃপক্ষ সানি-লিওনের সফর বাতিলের ঘোষণা দেয়।
করেনজিত কৌর ভোহরা (Karenjit Kaur Vohra) সানি লিওন নামে সুপরিচিত। তার জন্ম: ১৩ মে ১৯৮১। তিনি একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় এবং মার্কিন অভিনেত্রী, ব্যবসায়ী, মডেল এবং প্রাক্তন পর্নোতারকা। এছাড়াও তিনি কারেন মালহোত্রা নামেও অভিনয় করেছেন। ২০০৩ সালে তাকে পেন্টহাউস বর্ষসেরা পেটস নির্বাচিত হন, অতঃপর তিনি ভিভিড এন্টারটেনমেন্টের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১০ সালে, তিনি ম্যাক্সিম বিশ্বসেরা ১০ পর্ণোতারকার একজন নির্বাচিত হন। তিনি বেশ কয়েকটি স্বাধীন মূলধারার চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অভিনয় করেছেন। ২০১২ সালে, তিনি পূজা ভাটের জিসম ২ নামক যৌনাবেদনময়ী থ্রিলার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেছেন। বর্তমানে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করেন।
সানি লিওন ১৯৮১ সালের ১৩ই মে তারিখে কানাডার অন্টারিওর সার্নিয়া নামক শহরের এক শিখ পাঞ্জাবি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার বাবা তিব্বতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দিল্লিতে শৈশব অতিবাহিত করেছেন, অন্যতদিকে তার মা (যিনি ২০০৮ সালে মারা গিয়েছেন) ছিলেন হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। শৈশবে তিনি খুব ক্রীড়াপ্রেমী ছিলেন, যার ফলে ছেলেদের সাথে রাস্তায় হকিও খেলতেন। পরবর্তীতে তিনি হিমায়িত হ্রদের উপর আইস স্কেটিং করতেন।
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন
যেহেতু তার পরিবার শিখ ছিল, একারণে তারা তাকে পাবলিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা বিষয়ে নিরাপদ বোধ করতো না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে অন্য বিদ্যালয়ের একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের কাছে তিনি তার কুমারীত্ব হারান এবং ১৮ বছর বয়সে তিনি নিজেকে একজন উভকামী হিসেবে আবিষ্কার করেন। যখন ১৩ বছর বয়সী ছিলেন তখন তিনি তার পরিবারের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ফোর্ট গ্রাটিয়টে চলে আসেন, এর এক বছর পর তারা ক্যালিফর্নিয়ার লেক ফরেস্টে স্থানান্তর হন; যেখানে তার নানীর ইচ্ছায় তাদের পুরো পরিবার একসাথে বসবাস করেছে।