খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৪০ এএম

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) ১.৫৩ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ পুনরায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, বড় অংকের এই দেনা মেটানোর পর দেশের বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ মাত্র একদিন আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল যে, প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহের কল্যাণে গত ১৫ দিনে রিজার্ভ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ২৯.১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।
রিজার্ভের গতিপ্রকৃতি ও আইএমএফ পদ্ধতি
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্দেশিত ‘BPM6’ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৮.০৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ডিসেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহে রিজার্ভে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনে এই মজুত বৃদ্ধি করছে। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আশাব্যঞ্জক হওয়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে, যার সুফল পাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নিচে দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি ও এসিইউ সংক্রান্ত তথ্য সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও তথ্য |
| বর্তমান গ্রস রিজার্ভ | ২৭.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (এসিইউ পরিশোধ পরবর্তী)। |
| এসিইউ পেমেন্টের অংক | ১.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। |
| পাক্ষিক রিজার্ভ প্রবৃদ্ধি | প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার (জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত)। |
| ডলার ক্রয়ের পরিমাণ (অর্থবছর) | ৩.৫৪ বিলিয়ন ডলার (জুলাই ২০২৫ – ৬ জানুয়ারি ২০২৬)। |
| জানুয়ারি ২০২৬-এ ডলার ক্রয় | ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। |
| সদস্য দেশসমূহ (ACU) | বাংলাদেশসহ মোট ৯টি এশীয় দেশ। |
| রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার কৌশল | বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয়। |
এসিইউ এবং আঞ্চলিক লেনদেনের প্রভাব
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (এসিইউ) মূলত একটি আন্তঃদেশীয় মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, যা ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান কার্যালয় ইরানের তেহরানে অবস্থিত। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এই ব্যবস্থার সদস্য। প্রতি দুই মাস অন্তর সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেনের বিল এই সংস্থার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশ ভারতসহ অন্যান্য সদস্য দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর রিজার্ভ থেকে বড় অংকের অর্থ এই খাতে ব্যয় করতে হয়।
বাজার স্থিতিশীলতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহের কারণে বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। অতিরিক্ত ডলার প্রবাহের কারণে যাতে মুদ্রার বিনিময় হার (Exchange Rate) আকস্মিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে নিয়মিত ডলার ক্রয় করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই ৩.৫৪ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে এবং রেমিট্যান্সের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে রিজার্ভের পরিমাণ আরও শক্তিশালী হবে।
মন্তব্য