ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটে চলাচলকারী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে বুধবার গভীর রাতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে থাকা যাত্রীরা একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়ে দুই ডাকাতকে আটক করে এবং রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে সোর্পদ করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যে জানা যায়, হাওর এক্সপ্রেসটি বুধবার রাত ১০টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোহনগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশনে যাত্রাবিরতি শেষে মোহনগঞ্জের দিকে রওনা হয়। ওই সময় ছদ্মবেশে থাকা ডাকাত দলের সশস্ত্র সদস্যরা ‘ঞ’ বগিতে উঠে পড়ে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে মূল্যবান মালামাল লুট শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, ডাকাতরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের জিম্মি করে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ছিলেন মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়ার রতন মিয়া, খালিয়াজুরীর সারোয়ার মিয়া এবং বারহাট্টার অনয় বিশ্বশর্মা। তারা বলেন, “ডাকাতরা স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং নগদ টাকা লুট করতে শুরু করলে আমরা কয়েকজন মিলে হঠাৎ করে একযোগে হামলা চালাই। এ সময় দুইজন ডাকাতকে আটক করা সম্ভব হয়।” ডাকাত দলের বাকি সদস্যরা গৌরীপুর স্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা হলেন:
নাম পিতা/স্থায়ী এলাকা বয়স গ্রেপ্তার স্থান জব্দকৃত মালামাল
আজমাইল হোসেন নিঝুম আলমগীর হোসেন / কেওয়াটখালী, ময়মনসিংহ ৩০ ট্রেনের ‘ঞ’ বগি স্টিলের বড় চাকু ২টি, মোবাইল ২টি
মো. মেহেদী হাসান তানভীর মো. রুমান মিয়া / বলাশপুর, কেওয়াটখালী ১৮ ট্রেনের ‘ঞ’ বগি স্টিলের বড় চাকু ২টি, মোবাইল ২টি
মোহনগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেন জানান, “দুইজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি স্টিলের বড় চাকু এবং দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। ডাকাতির সময় যাত্রীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অপরাধীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।”
এই ঘটনা বাংলাদেশের রেলপথ নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিশেষ করে রাতের সময় যাত্রীবেশে ডাকাতির ঘটনাগুলি যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। রেলওয়ে পুলিশ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত টহল চালানোর কথা জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৫ সালের মধ্যে ঢাকা-ময়মনগঞ্জ রুটে যাত্রীবেশে ডাকাতির ঘটনায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা ও রেল পুলিশ টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।