কুয়াকাটায় ধরা পড়ল বিশাল রাজা ইলিশ: বিক্রি হলো ৫৪৫৬ টাকায়

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ধরা পড়ল বিশাল আকৃতির এক রূপালি ইলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) শেষ বিকেলের দিকে কুয়াকাটার ঝাউবন এলাকার জেলে মাসুদ মাঝির জালে ধরা পড়ে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম (দেড় কেজি) ওজনের এই মাছটি। ভরা মৌসুম না হওয়া সত্ত্বেও বিরল আকৃতির এই ইলিশটি ধরা পড়ায় স্থানীয় মৎস্য বাজারে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাছটি ৫ হাজার ৪৫৬ টাকায় বিক্রি করা হয়।

মাছ ধরা পড়া ও জেলের অনুভূতি

জেলে মাসুদ মাঝি জানান, বর্তমানে সাগরে বড় ইলিশের দেখা পাওয়া বেশ দুষ্কর। শীত মৌসুমে সাধারণত ইলিশের আধিক্য কম থাকে এবং যা পাওয়া যায় তাও আকারে তুলনামূলক ছোট। তিনি প্রতিদিনের মতো সাগরে জাল ফেললে হঠাৎ বড় একটি টান অনুভব করেন। জাল তুলতেই দেখেন রূপালি আভার এক বিশাল ইলিশ। মাসুদ মাঝি বলেন, “আল্লাহর রহমতে সাগরে এখন বড় ইলিশের সংখ্যা অনেক কম থাকলেও আমি এই মাছটি পেয়েছি। পরিমাণে খুব বেশি মাছ না পেলেও আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতেই আমি খুশি।”

নিলাম ও বিক্রির বিবরণ

মাছটি কুয়াকাটা পৌর বাজারে নিয়ে আসা হলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে শুরু হয় উন্মুক্ত নিলাম। মাছটি স্থানীয় হিসেবে মণপ্রতি ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়। সেই হিসেবে কেজিপ্রতি দাম দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের মাছটির মোট মূল্য হয় ৫ হাজার ৪৫৬ টাকা।

কুয়াকাটা পৌর বাজারের ‘ঘরামী ফিস’ আড়ত থেকে মাছটি কিনে নেন ‘মাছের বাড়ি’ নামক আড়তের মালিক মো. হাসান। তিনি বলেন, “অসময়ে পাওয়া এই মাছটি একটু লাভের আশায় কিনেছি। এটি বেশ দুর্লভ, তাই সামান্য লাভ পেলেই কোনো শৌখিন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেব।”

নিচে মাছটি বিক্রি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সারণি আকারে দেওয়া হলো:

বিশাল আকৃতির ইলিশ বিক্রির সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত বিবরণ
জেলে ও এলাকার নামমাসুদ মাঝি, ঝাউবন এলাকা, কুয়াকাটা
মাছটির ওজন১ কেজি ৫০০ গ্রাম (দেড় কেজি)
নিলামের দর (মণপ্রতি)১ লাখ ৫২ হাজার টাকা
প্রতি কেজির দাম৩ হাজার ৮০০ টাকা
মোট বিক্রয় মূল্য৫ হাজার ৪৫৬ টাকা
ক্রেতার পরিচয়মো. হাসান (মালিক, মাছের বাড়ি আড়ত)

মৎস্য কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণ

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা এই ঘটনা সম্পর্কে জানান, শীত মৌসুমে ইলিশ সাধারণত গভীর সাগরে চলে যায়, ফলে উপকূলে বড় ইলিশ ধরা পড়ার হার অনেকাংশেই কমে যায়। তবে মাঝে মধ্যে বড় ইলিশ ধরা পড়লেও দেড় কেজি ওজনের মাছ এখন বেশ বিরল। তাঁর মতে, মৎস্য দপ্তরের বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ এবং সাগরে ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র সুরক্ষিত থাকায় এমন বড় আকৃতির ইলিশের দেখা মিলছে, যা স্থানীয় জেলেদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।

শীতকালীন বাজারে এমন ‘রাজা ইলিশ’ কেবল আভিজাত্যই বাড়ায় না, বরং এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ ভোজনরসিকদের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব পায়। কুয়াকাটার এই ইলিশটি যেন সাগরে ইলিশের প্রাচুর্যের এক ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।