খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১ পিএম

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনৈতিক নেতা থালাপতি বিজয়ের জীবন বর্তমানে কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর একটি সমাবেশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-র জেরার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে।
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার, ১২ জানুয়ারি, থালাপতি বিজয়কে কেন্দ্রীয় দফতরে হাজিরা দিতে হবে। ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর কারুরে শহরে অনুষ্ঠিত হয় টিভিকে দলের প্রথম বিশাল সমাবেশ। প্রিয় অভিনেতাকে এক নজর দেখার জন্য সমাবেশে ভিড় ছিল অভূতপূর্ব। এতটাই ভিড়ের চাপ ছিল যে পুলিশ ও আয়োজকদের জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখা দায় হয়ে ওঠে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাবেশ চলাকালীন ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৪১ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু, এবং শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই সমাবেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার গুরুত্বর কারণে গত অক্টোবর মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নড়েচড়ে বসে। বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী এবং এনভি আঞ্জারিয়া সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ঘটনাটির গভীরতা বিবেচনা করে সিবিআইকে তদন্তভার দেন।
সিবিআইয়ের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অজয় রাস্তোগি নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন দুজন দক্ষ আইপিএস অফিসার, যারা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখবেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সমাবেশের তারিখ | ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ |
| স্থান | কারুরে, তামিলনাড়ু |
| মৃত্যু সংখ্যা | ৪১ (নারী ও শিশু সহ) |
| আহত | শতাধিক |
| প্রধান তদন্ত সংস্থা | সিবিআই |
| সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ | জে কে মহেশ্বরী, এনভি আঞ্জারিয়া |
| বিশেষ কমিটি | অজয় রাস্তোগি নেতৃত্বে ৩ সদস্য |
রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন করে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে এই আইনি জটিলতা থালাপতি বিজয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সিবিআই মূলত যাচাই করতে চায় যে ওই দিনের আয়োজনে কোন কোন নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল এবং আয়োজক হিসেবে বিজয়ের দলের দায় কতটুকু।
আগামী সোমবার, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সামনে হাজির হয়ে থালাপতি বিজয়কে নিজের অবস্থান ও দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। এই ঘটনায় দক্ষিণ ভারতীয় রাজনীতি এবং বিনোদন জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অন্য রাজনৈতিক সমাবেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
মন্তব্য