বিএনপির ভেতরে উত্তাল! ১১৫ আসনে ১৯০ বিদ্রোহী প্রার্থী

বিএনপির ভেতরে এখন এক ধরনের তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। দলীয় সিদ্ধান্ত এবং আজীবন বহিষ্কারের হুমকির মধ্যেও প্রায় ২০০ জন মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে এটি দলটির জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমান্ড বারবার সতর্কবার্তা দিলেও মনোনয়ন বঞ্চিতরা সড়ক ছাড়তে নারাজ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১১৫টি আসনে ১৯০-এর বেশি নেতা স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিএনপি দুর্গগুলো, এমনকি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসনেও দলের অফিসিয়াল তালিকার বাইরে প্রভাবশালী নেতারা মনোনয়ন করেছেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কিছু আসনে ‘বিকল্প প্রার্থী’ রাখা হয়েছে আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য, কিন্তু মাঠের বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন।

সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে শরীক জোটকে দেওয়া আসনগুলোতে। স্থানীয় ত্যাগী নেতারা সেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ। উদাহরণস্বরূপ:

আসনদলীয় মনোনীত প্রার্থীস্বতন্ত্র প্রার্থীমন্তব্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২জুনায়েদ আল হাবিব (জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম)রুমিন ফারহানাদীর্ঘদিন মনোনয়ন প্রত্যাশী; দল থেকে বহিষ্কার
ঢাকা-১২সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)সাইফুল আলম নিরবশীর্ষ নেতা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন
পটুয়াখালী-৩নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ)হাসান মামুনচ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬জোনায়েদ সাকির (গণসংহতি আন্দোলন)৫ জন স্থানীয় নেতাস্বতন্ত্র প্রার্থীর হিড়িক

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিদ্রোহের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে বিএনপির ভোটব্যাংকে। সাধারণত দলের সমর্থকরা স্থানীয় জনপ্রিয় নেতাদের প্রতি ব্যক্তিগত আস্থা দেখিয়ে ভোট দেন। এখন যদি একই আসনে দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র বিএনপি নেতারা লড়াই করেন, তাহলে ভোট বিভক্ত হবে এবং সরাসরি সুবিধা পাবে প্রতিপক্ষ। ফলে সুসংগঠিত ভোটব্যাংক থাকা সত্ত্বেও অনেক নিশ্চিত আসন হারাতে পারে দল।

দলের হাইকমান্ডও এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের জন্য ক্ষমা নেই। ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। যারা এই সময়ের মধ্যে মনোনয়ন সরাবে না, তাদের শুধু বহিষ্কার নয়, আজীবন সদস্যপদ বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

তবুও যদি বিদ্রোহীরা মাঠ ছাড়েন না, তাহলে ভোটের লড়াইতে বিএনপিকে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

নিউজ ডেস্ক, খবরওয়ালা।