জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ইরানকে ”লিবিয়ার” মতো করার ষড়যন্ত্র করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি চরমভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক চাপ, মুদ্রার হ্রাস এবং মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রতিবাদগুলো শুধুই অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, ইরানের এই অস্থির পরিস্থিতিকে নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, পশ্চিমা শক্তিগুলি ইরানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভেদাভেদকে কাজে লাগিয়ে ‘নাগরিক যুদ্ধের পরিবেশ’ তৈরি করতে চাইছে। এই কৌশলকে তারা ‘লিবিয়ান করা’ বলে উল্লেখ করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, আইআরজিসি ঘাঁটি ও অন্যান্য মিলিটারি সংস্থার ওপর হামলার জন্য বৈশ্বিক সমর্থনের প্রস্তুতি তৈরি করা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই এমন ব্যক্তিদের সমর্থন দিয়েছেন, যারা ইরানে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানি সরকারকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। যদিও ট্রাম্প নিজেকে ইরানের জনগণের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করছেন, ২০২৩ সালের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলের পাশে থাকার কারণে এক হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বিশ্ব রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ বায়াত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পনার তিনটি মূল লক্ষ্য ছিল:

  1. ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রামের ধ্বংস

  2. ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামের দুর্বলকরণ

  3. রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন

তবে সাত মাসের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রাম দ্রুত পুনর্নির্মাণ করায় এই লক্ষ্যগুলো অর্জন ব্যর্থ হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সূত্রে জানা যায়, নেতানিয়াহুর ফ্লোরিডার সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল গাজার বা লেবাননের বিষয় নয়, বরং ইরানের শক্তির উৎসের ওপর নতুন হামলার ‘গ্রীন লাইট’ নেওয়া। ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ প্রেস কনফারেন্সে এটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ইরানের প্রতিবাদের পরিসংখ্যান (গত সপ্তাহের ভিত্তিতে)

প্রতিবাদ ধরনসীমা ও মাত্রাতুলনা (২০১৯, ২০২২)মন্তব্য
অর্থনৈতিক প্রতিবাদমধ্যমছোট ও সীমিতমুদ্রার হ্রাস ও ৫০% মূল্যস্ফীতি উৎস
জাতিগত/সামাজিক প্রতিবাদছোটউল্লেখযোগ্য নয়সীমিত সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ
সামগ্রিক প্রভাবমধ্যম২০১৯/২০২২ এর তুলনায় কমজাতীয় বিদ্রোহ নয়, প্রভাব সীমিত

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই পরিস্থিতিকে দ্বিতীয়বারের মতো সামরিক আগ্রাসনের জন্য ব্যবহার করতে চাইছে। ট্রাম্পের Truth Social-এ প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ইরানে সহিংসতার সম্ভাবনার কথা বলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের হস্তক্ষেপ জাতিসংঘের চার্টারের ধারা লঙ্ঘন করে। নির্বাচনী বছরকে সামনে রেখে এটি রিপাবলিকান ভোটারদের প্রতি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েলি লবির প্রভাব এখনও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Tags :

Shojib

Recent News