শরীয়তপুরের ফার্মেসি ব্যবসায়ী ও বিকাশ এজেন্ট খোকন দাস (৫০) কে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রধান তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার রাতে র্যাব-১৪ এর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে ধরে শহরে ফিরিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
ডামুড্যার সোহাগ খান, বয়স ২৭
রাব্বি মোল্যা, বয়স ২১
পলাশ সরদার, বয়স ২৫
শরীয়তপুর পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে খোকন দাস হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করেছিলেন। খোকন দাস ছিলেন পরেশ দাসের ছেলে এবং পেশায় একজন ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসায়ী। ঘটনার দিন, ৩১ ডিসেম্বর রাতে, তিনি কেহরভাঙ্গা বাজারে নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন।
তিলই এলাকায় পৌঁছালে ৩–৪ জন দুর্বৃত্ত ধারাল অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা খোকন দাসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। আহত ব্যক্তি তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চেনায়, যা উত্তেজিত দুর্বৃত্তদের ভিকটিমের শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করতে বাধ্য করে। স্থানীয়রা দগ্ধ ও আহত অবস্থায় খোকন দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতরা এলাকায় পরিচিত বখাটে এবং মাদক সেবনকারী। র্যাবের অভিযানিক দল বর্তমানে মামলার অন্যান্য সহযোগী এবং সহপাঠীদের খুঁজছে।
নিচের টেবিলে হামলার সময়সূচী ও আহত ব্যক্তির তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| ঘটনা ও সময়সূচী | বিবরণ |
|---|---|
| দোকান বন্ধ ও বাড়ি ফেরা | ৩১ ডিসেম্বর রাত, কেহরভাঙ্গা বাজার থেকে তিলই এলাকা |
| হামলার ধরন | ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরানো |
| আহত অবস্থায় উদ্ধার | স্থানীয়রা উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে |
| উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| মৃত্যু | চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু |
| গ্রেফতারকৃত | সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা, পলাশ সরদার |
| অভিযুক্তদের পরিচিতি | স্থানীয় বখাটে, মাদকসেবী |
র্যাব ও পুলিশ স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে।
