“ছাত্রলীগ করা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে সারজিস আলমও অপরাধী।”— মাহদী হাসান

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসান সাম্প্রতিক এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “ছাত্রলীগ করা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও অপরাধী।” সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। মাহদী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, “যদি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকা অপরাধের সমতুল্য হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের অনেক নেতা—যাদের মধ্যে সারজিস আলমও রয়েছেন—ও সেই অপরাধের মধ্যে পড়বেন।”

মাহদী এই মন্তব্য করেন ‘ট্যাগিং রাজনীতি’-র প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, “এ ধরনের রাজনীতি ইতোমধ্যেই দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক নিরপরাধ মানুষ, যারা একসময় ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে অযাচিত অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”

তথ্য অনুযায়ী, মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে হুমকি প্রদানের এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে থানার বাইরে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ পরে তাকে আটক করে। তার অনুসারীরা পুলিশি ব্যবস্থার প্রতিবাদে থানায় ঘেরাও করে আন্দোলন চালায়।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানান, মাহদীকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারের সময় কোন মামলায় ধরা হয়েছে তা পরে জানানো হবে। নয়নের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে বলতে গেলে, সে একসময় ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, তবে বর্তমানে নেই।”

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

তারিখঘটনাব্যক্তির নামভূমিকা/মন্তব্যস্থান
শুক্রবার ভোরছাত্রলীগ নেতা নয়নকে আটকনয়নছাত্রলীগকর্মী, পরে মুক্তিশায়েস্তাগঞ্জ থানা
শুক্রবার বিকেলনয়নকে ছেড়ে দেয়ার চেষ্টামাহদী হাসানবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাশায়েস্তাগঞ্জ থানা
শনিবার সন্ধ্যামাহদীকে আটকমাহদী হাসানসদস্যসচিব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনগোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)
আটকের পরআন্দোলন ও প্রতিবাদমাহদীর অনুসারীথানা ঘেরাও, মুক্তির দাবিতে আন্দোলনসদর মডেল থানা

মাহদী হাসানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার উদাহরণ উল্লেখ করছেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

এই ঘটনায় ‘ছাত্ররাজনীতি এবং রাজনৈতিক ট্যাগিং’-কে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক নেতাদের কার্যক্রমে সীমারেখা বজায় রাখা এবং অযাচিত অভিযোগ এড়ানো প্রয়োজন।