যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মাদুরোকে নিউইয়র্কে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি) নামের একটি উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন ফেডারেল কারাগারে আটক আছেন। এই কারাগারটি বিশ্বের বিভিন্ন আলোচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিকে রাখার জন্য পরিচিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে মাদুরোকে বহনকারী একটি বিমান আপস্টেট নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে অবতরণ করে। সেখানে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে হেফাজতে নেন। এরপর হেলিকপ্টারে করে তাকে ম্যানহাটনের ওয়েস্ট সাইড হেলিপোর্টে আনা হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাকে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ)-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরে আদালতে হাজিরার আগ পর্যন্ত এমডিসি ব্রুকলিনে স্থানান্তর করা হয়।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০ সালে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এখন ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শিগগিরই ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।
এমডিসি ব্রুকলিনে এর আগে গায়ক আর কেলি, জেফ্রি এপস্টেইনের সহযোগী হিসেবে দণ্ডিত গিসলেন ম্যাক্সওয়েল এবং সংগীত প্রযোজক শন “ডিডি” কম্বসের মতো আলোচিত ব্যক্তিরা আটক ছিলেন। কোনো রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে একই কারাগারে রাখার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এবং তা নিয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। হোয়াইট হাউস প্রাথমিকভাবে দাবি করলেও নিউইয়র্কে তার উপস্থিতি দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের অভিযোগপত্রে মাদুরো ও ফ্লোরেস—উভয়ের নামই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে “অপহরণ” হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেন এবং সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ যে কোনো দেশের ক্ষেত্রেই বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এদিকে ওয়াশিংটন, নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা প্রশমনের দাবিতে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আটক ব্যক্তি | নিকোলাস মাদুরো |
| আটক স্থান | মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার, ব্রুকলিন |
| অভিযোগ | মাদক ও অস্ত্র পাচার, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র |
| অভিযোগপত্র দাখিল | ২০২০, নিউইয়র্ক সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | ভেনেজুয়েলার তীব্র প্রতিবাদ, বৈশ্বিক উদ্বেগ |
