ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতার অবসান ঘটিয়ে এক নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর একটি চৌকস দল রাজধানী কারাকাসে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে প্রবেশ করে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাঁদের শোবার ঘর থেকেই আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযানকে ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম সফল ‘সারপ্রাইজ অপারেশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যেন ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো প্রকার প্রতিরোধের সুযোগ না পায়। অভিযানের শুরুতে পুরো কারাকাস শহরকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একটি কৃত্রিম ব্ল্যাকআউট তৈরি করা হয়। ট্রাম্প বলেন, “মাদুরো একটি সুরক্ষিত দুর্গে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু আমাদের যোদ্ধারা সেই দেয়াল ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা যখন মাদুরোর শোবার ঘরে পৌঁছায়, তখন তিনি কোনো পালানোর পথ পাননি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই সাফল্যের জন্য সঠিক আবহাওয়া ও সময়ের সন্ধানে মার্কিন বাহিনী টানা চার দিন ধরে ওত পেতে ছিল।
অভিযানের নেপথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতির রূপরেখা
| প্রধান বিষয় | বিস্তারিত তথ্যাবলি |
| অভিযানের স্থান | কারাকাস (প্রেসিডেন্ট প্যালেস ও পার্শ্ববর্তী দুর্গ)। |
| আটককৃত ব্যক্তিত্ব | প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেস। |
| ব্যবহৃত শক্তি | এফবিআই-এর বিশেষ টিম ও মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস। |
| কৌশলগত পদক্ষেপ | সমগ্র শহরের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ ও আকাশপথে নজরদারি। |
| মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি | কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি; কয়েকজন সামান্য আহত। |
| রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত | আপাতত শূন্য পদের জন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। |
সিএনএন এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা ও আরাগুয়া প্রদেশে সিরিজ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ছিল মূলত মাদুরোর অনুগত বাহিনীর মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল। অভিযানে এফবিআই-এর একটি উচ্চ প্রশিক্ষিত দল সরাসরি প্রেসিডেন্টের অন্দরমহলে হানা দেয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, পুরো অভিযানে কোনো মার্কিন সৈন্য প্রাণ হারাননি, যা এই মিশনের নিখুঁত পরিকল্পনারই প্রমাণ দেয়।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, মাদুরোর পতনের পর দেশটিতে কে ক্ষমতায় আসবে বা কীভাবে নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবে যুক্তরাষ্ট্রই। তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ওয়াশিংটন এখন সরাসরি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শোবার ঘর থেকে একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে তুলে নেওয়ার ঘটনা ল্যাটিন আমেরিকার রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমানা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।
