হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার প্রতিবাদে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শত শত নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে শাহবাগ চত্বরে অবস্থান নেন। আকস্মিক এই অবরোধের ফলে মৎস্য ভবন, বাংলামোটর ও টিএসসি অভিমুখী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গভীর রাতে রাজধানীর প্রধান এই সংযোগস্থলে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা মাহদী হাসানের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শাহবাগ এলাকা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদী ভাইয়ের মুক্তি চাই’, ‘গোলামি না আজাদী, আজাদী আজাদী’ এবং ‘দাসত্ব না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে নসাৎ করতে প্রশাসনের ভেতরে সক্রিয় বিগত সরকারের দোসররা পরিকল্পিতভাবে ছাত্রনেতাদের টার্গেট করছে। তারা দাবি করেন, মাহদী হাসান জুলাই আন্দোলনের একজন অকুতোভয় যোদ্ধা, যাকে হবিগঞ্জে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারকে তারা ছাত্রসমাজের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ থেকে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। এর আগে শুক্রবার শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একটি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে শাহবাগে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা বলছেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা না করে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে প্রশাসনের সুবিধাভোগী একটি অংশ মাহদীকে হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। যতক্ষণ না তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শাহবাগ থেকে একচুলও না নড়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শাহবাগ অবরোধ ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
| ঘটনার বিবরণ | সময় ও স্থান | মূল প্রেক্ষাপট |
| আটক অভিযান | শনিবার সন্ধ্যা ৭:৩০, হবিগঞ্জ | মাহদী হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। |
| রাজপথ অবরোধ | শনিবার রাত ১০:৩০, শাহবাগ | রাজধানীর মূল সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। |
| আন্দোলনকারী | শাহবাগ চত্বর, ঢাকা | বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ ছাত্ররা। |
| বিক্ষোভের স্লোগান | চলমান | আজাদী ও জুলাই বিপ্লবের মর্যাদা রক্ষা। |
| পরিবহন চিত্র | শনিবার দিবাগত রাত | চারদিকের রাস্তায় দীর্ঘ যানজট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ। |
শাহবাগে অবস্থানরত সমন্বয়করা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসন যে গণঅভ্যুত্থানের ফসল, সেই অভ্যুত্থানের নায়কদেরই আজ অপদস্থ করা হচ্ছে। তারা মনে করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিগত সরকারের আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা এখনও বহাল তবিয়তে আছেন এবং তারাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শাহবাগ অবরোধের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির ওপর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া নজর রাখছে। তবে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় বসে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন।
হবিগঞ্জ জেলা সদর এবং শাহবাগের এই যুগপৎ আন্দোলন মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিকে একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করেছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাহদীকে ছেড়ে দেওয়া না হয়, তবে পরদিন থেকে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও কঠোর ও সর্বাত্মক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গভীর রাতেও শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং সংহতি প্রকাশ প্রমাণ করে যে, তারা তাদের দাবিতে অটল রয়েছেন।
