অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মহলে যখন পরিবর্তনের তীব্র হাওয়া বইছে, ঠিক তখনই কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। পাঁচ টেস্টের সিরিজে তিনটিতেই পর্যুদস্ত হওয়ার পর ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট কৌশল নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হলেও স্টোকস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাককালামকে ছাড়া তিনি বর্তমান দলের ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পারেন না। মেলবোর্নের চতুর্থ টেস্টে ১৫ বছর পর কাঙ্ক্ষিত জয় পেলেও সিডনিতে শেষ টেস্টের আগে কোচের ভাগ্য নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, অধিনায়কের এই মন্তব্যে তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেল।
২০২২ সালে যখন স্টোকস ও ম্যাককালামের যুগলবন্দী শুরু হয়, তখন তারা বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। শুরুর দিকে ১১ টেস্টের ১০টিতে জিতে তারা যে দাপট দেখিয়েছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় সেই জৌলুস কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বশেষ ৩৪টি টেস্টে ইংল্যান্ড ১৬টি জয়ের বিপরীতে ১৬টি হার বরণ করেছে, যার মধ্যে দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের দীর্ঘ সিরিজে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসায় ম্যাককালামের কোচিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরা।
অধিনায়ক বেন স্টোকস অবশ্য সব সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, ব্যর্থতার দায় নিয়ে বারবার কোচ বা নীতিনির্ধারক বদল করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এই দলটিকে যে অবস্থানে আমরা দেখতে চাই, সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্রেন্ডনের চেয়ে যোগ্য কাউকে আমি ভাবতেই পারি না।” স্টোকস ও ম্যাককালাম—উভয়েরই চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত রয়েছে। ক্রিকেট পরিচালক রব কির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা থাকলেও স্টোকস মনে করেন, বর্তমান কাঠামো বজায় রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ২০১০-১১ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের বারবার ভরাডুবির পরও মানুষ বদলানো হয়েছে, কিন্তু তাতে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।
আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের দায়িত্ব পালন করবেন ম্যাককালাম। অনেকেই মনে করছেন, টেস্ট এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দ্বৈত দায়িত্ব সামলানো তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে। তবে স্টোকস এই যুক্তিতে সায় দেননি। সিডনি টেস্টের জন্য ঘোষিত দলে চোটাক্রান্ত গাস অ্যাটকিনসনের জায়গায় শোয়েব বশির ও ম্যাথু পটসকে অন্তর্ভুক্তি করে দল পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। স্টোকসের আশা, শেষ টেস্টে জয় দিয়ে সিরিজ শেষ করে তারা সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিতে পারবেন।
একনজরে স্টোকস-ম্যাককালাম জুটির পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
| বিশেষ বৈশিষ্ট্য | বিস্তারিত তথ্য |
| জুটির সূচনা | ২০২২ সাল (বাজবল অধ্যায়) |
| সাফল্যের হার (শুরুতে) | ১১ টেস্টে ৯০.৯% জয় |
| বর্তমান ফর্ম (৩৪ টেস্ট) | ১৬ জয়, ১৬ হার, ২ ড্র |
| অ্যাশেজ ২০২৫-২৬ | ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ পরাজয় |
| দ্বৈত দায়িত্ব | টেস্ট ও সাদা বলের ক্রিকেটের প্রধান কোচ |
| সিডনি টেস্টের পরিবর্তন | ম্যাথু পটস ও শোয়েব বশির অন্তর্ভুক্ত |
| চুক্তির মেয়াদ | ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত |
বেন স্টোকসের এই অকুণ্ঠ সমর্থন প্রমাণ করে যে, মাঠের ফলের চেয়েও তিনি ম্যাককালামের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর বেশি আস্থাশীল। এখন দেখার বিষয়, সিডনি টেস্ট এবং আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।
