বিসিবি তৈরি করতে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস

বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় সূচনা হতে চলেছে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আঞ্চলিক শাখা অফিস চালু করতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের যাত্রা শুরু হবে সিলেট থেকে, যেখানে আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি সিলেট অফিসের উদ্বোধন হতে পারে। বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ক্রিকেট কার্যক্রমকে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে শক্তিশালীভাবে সম্প্রসারিত করা। বিসিবি জানায়, আঞ্চলিক অফিসগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় ক্রিকেট পরিচালনা, উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে।

বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে আঞ্চলিক অফিস চালু হবে নিম্নলিখিত শহরগুলোতে:

বিভাগশহরউদ্বোধন সম্ভাব্য তারিখলক্ষ্য
সিলেটসিলেটআগামীকালআঞ্চলিক ক্রিকেট কার্যক্রম চালু
চট্টগ্রামচট্টগ্রামঅচিরেইস্থানীয় ম্যাচ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা
বরিশালবরিশালঅচিরেইউন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ
খুলনাখুলনাঅচিরেইআঞ্চলিক টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনা

আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে ‘অ্যাসোসিয়েশন’ হিসেবে নয়, বরং বিভাগের নামেই পরিচালনা করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, সিলেট অফিস হবে ‘বিসিবি সিলেট’। প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসে একজন প্রধান থাকবেন, যিনি অফিসের সব কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিটি অফিসের জন্য আলাদা অর্গানোগ্রাম ও স্টাফ কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

নতুন আঞ্চলিক প্রধানদের নিয়োগে বিসিবি গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে, যাতে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থী আবেদন করতে পারে। এভাবে স্থানীয় যোগ্য নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আঞ্চলিক ক্রিকেট উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সিলেটে বর্তমানে বিপিএল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে চট্টগ্রামের সব ম্যাচ সিলেটে সরিয়ে আনা হয়েছে। এ সুযোগেই আঞ্চলিক অফিসের উদ্বোধন সম্পন্ন হবে।

বিসিবির এই আঞ্চলিক অফিস উদ্যোগ ভারতের রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ অন্যান্য টেস্ট খেলুড়ে দেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনার অনুকরণ। এর মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের বিকাশ এবং সংগঠন শক্তিশালী হবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, ঢাকার বাইরে পরিচালিত এই আঞ্চলিক অফিসগুলো আগামীতে দেশীয় ক্রিকেটের মান এবং সুযোগ আরও সমৃদ্ধ করবে।