নেদারল্যান্ডসে নববর্ষ উদযাপনের সময় আতশবাজি থেকে সৃষ্ট একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং রাজধানী আমস্টারডামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক গির্জা আগুনে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটিতে নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি সহিংসতা, অগ্নিকাণ্ড ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নেদারল্যান্ডসে নববর্ষ উদযাপন একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ উপলক্ষে সারা দেশে ব্যাপক আকারে আতশবাজি পোড়ানো হয়। তবে এই উদযাপন প্রায় প্রতি বছরই দুর্ঘটনা, আহত হওয়ার ঘটনা এবং বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নববর্ষের রাতে আতশবাজি-সংক্রান্ত ঘটনায় শত শত মানুষ আহত হন এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ পৌঁছে যায় লাখ লাখ ইউরোতে।
চলতি বছরের নববর্ষের প্রাক্কালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা দমন ইউনিট মোতায়েন করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই রাতে অন্তত ২৫০ জনকে বিভিন্ন সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু এলাকায় ভারী আতশবাজি, অগ্নিসংযোগ এবং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার ওপর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশ জানায়, আতশবাজি বিস্ফোরণে আমস্টারডামের কাছাকাছি এলাকায় ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। একই সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর নিজমেগেনে একটি আতশবাজি দুর্ঘটনায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, আমস্টারডামের কেন্দ্রীয় ভন্ডেলপার্কের নিকটবর্তী একটি ঐতিহাসিক গির্জায় মধ্যরাতের কিছু পরেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ১৮৭২ সালে নির্মিত গির্জাটি অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে স্থাপনাটির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। পুলিশ ও দমকল বিভাগ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করছে না।
নিচের টেবিলে নববর্ষের ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের সংখ্যা | ২ জন |
| গুরুতর দুর্ঘটনার স্থান | আমস্টারডাম ও নিজমেগেন |
| গ্রেফতার | প্রায় ২৫০ জন |
| ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনা | ১৮৭২ সালে নির্মিত গির্জা |
| মোতায়েন বাহিনী | পুলিশ ও দাঙ্গা দমন ইউনিট |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতশবাজি ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে যাবে। নেদারল্যান্ডসে নববর্ষের আনন্দ উদযাপন যেন মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার জন্য হুমকি হয়ে না ওঠে—সে বিষয়ে নতুন করে ভাবনার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
