কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের দেখা, স্বস্তির নিঃশ্বাস রাজধানীতে

টানা কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা আর হিমেল শীতের পর অবশেষে রাজধানীবাসী পেল একটুখানি স্বস্তি। দীর্ঘ তিন দিন পর বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকার আকাশে উঁকি দেয় সূর্য। কুয়াশা ভেদ করে আসা নরম, মিষ্টি রোদে নগরজীবনে ফিরেছে কিছুটা উষ্ণতা ও প্রাণচাঞ্চল্য। যদিও বাতাসে এখনও শীতের হালকা কামড় অনুভূত হচ্ছে, তবে আগের দিনের তুলনায় ঠান্ডার তীব্রতা কিছুটা কম বলে মনে করছেন নগরবাসী।

বুধবার বেলা ১১টার পর রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া। সকালবেলা কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই এদিন সকালে হাঁটাহাঁটি, রিকশা বা সাইকেল চালাতে বের হন, কেউ কেউ রোদ পোহাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ছাদে কিংবা খোলা জায়গায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারাদিন আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভোর ও রাতের দিকে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শীতের অনুভূতিকে কিছুটা বাড়িয়ে তুলছে। তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনের বেলায় শীতের তীব্রতা কম অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শীত মৌসুমে এমন আবহাওয়ার পরিবর্তন স্বাভাবিক। সূর্যের দেখা মিললেও রাতের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও তাপমাত্রার তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল উপকূলীয় অঞ্চল টেকনাফে। এই বৈপরীত্যপূর্ণ আবহাওয়া শীত মৌসুমের স্বাভাবিক চিত্র বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের দেখা পাওয়ায় রাজধানীর জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি, যদিও শীত এখনো পুরোপুরি বিদায় নেয়নি।

তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার সংক্ষিপ্ত চিত্র :

এলাকাতাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস)অবস্থা
ঢাকা১৪.০আংশিক মেঘলা, শুষ্ক
গোপালগঞ্জ৭.৫দেশের সর্বনিম্ন
টেকনাফ২৬.৬দেশের সর্বোচ্চ
বাতাসের গতি৮–১২ কিমি/ঘণ্টাউত্তর/উত্তর-পশ্চিম