৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য নতুন সুবিধা

দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একীভূতকরণের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের লাখো গ্রাহক এখন নতুনভাবে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-তে তাদের আমানত স্থানান্তরের সুবিধা পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সম্প্রতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ খেলাপির কারণে দেশের কয়েকটি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে পাঁচটি সবচেয়ে সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই পাঁচটি ব্যাংক হলো:

ব্যাংকের নামবর্তমান শাখা সংখ্যাএজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটATM বুথ
এক্সিম ইসলামী ব্যাংক152112145
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক148105132
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক987488
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক136110125
ইউনিয়ন ব্যাংক226210485
মোট760511975

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা যায়, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট আমানতকারী সংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ এবং তাদের মোট জমা ১,৪২,০০০ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ১,৯৩,০০০ কোটি টাকা, যার বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

একীভূতকরণের পর, গ্রাহকরা তাদের পুরোনো চেক বই ব্যবহার করে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত একবারে উত্তোলন করতে পারবেন। তবে ধাপে ধাপে উত্তোলনের সীমা বাড়ানো হবে। দুই লাখ টাকার কম জমা থাকলে পুরো টাকা একবারেই উত্তোলন সম্ভব। দুই লাখ টাকার বেশি থাকলে প্রতি তিন মাসে এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সী বা গুরুতর অসুস্থ গ্রাহকদের জন্য সীমা শিথিল রাখা হয়েছে।

নতুন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে স্থাপিত হয়েছে। ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫,০০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০,০০০ কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে ১৫,০০০ কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০,০০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই একীভূতকরণের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং গ্রাহকদের আস্থার সংকট কাটবে। নতুন ব্যাংকের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের চাপ কমবে এবং আমানতকারীরা সুরক্ষিতভাবে তাদের অর্থ পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।