পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখ মেয়েদের অপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার ঘটনা ক্রমবর্ধমান

ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ – পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনা নতুন নয়। দেশটির জনসংখ্যার মাত্র ১.৬ শতাংশের কাছাকাছি হিন্দু রয়েছে, কিন্তু বিশেষ করে সিন্ধু প্রদেশে হিন্দু মেয়েদের অপহরণ, জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো এবং মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা বারবার ধরা পড়ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রতি বছর শত শত হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখ মেয়েকে অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ সংগ্রহ করেছে। পাকিস্তানের ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ চার্চেস (এনসিসিপি) জানিয়েছে যে খ্রিস্টান মেয়েদের অপহরণের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। কালাশ সম্প্রদায়ের মেয়েদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার অভিযোগও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে প্রায়শই দরিদ্র ও নিম্নবর্ণের পরিবারের কিশোরী মেয়েরা থাকেন, কিছু ক্ষেত্রে বয়স মাত্র ১২ বছরও হতে পারে।

সম্প্রতি মিরপুরখাস জেলার কুনরি এলাকায় হিন্দু নাবালিকা সুনীতাকে অপহরণ করা হয়, জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হয় এবং significantly বড় বয়সের একজন মুসলিম পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের তদন্ত ও পুলিশি হস্তক্ষেপের পর তাকে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়। স্থানীয় হিন্দু নেতা চন্দর কোহলি বলেন, “এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দরিদ্র পরিবারগুলো আইনি লড়াই করার সামর্থ্য না থাকায় তাদের মেয়েদের টার্গেট করা হয়।”

আরও একটি উদাহরণ—রিতা, হিন্দু কিশোরী, ৬৫ বছরের এক মওলানার সঙ্গে জোরপূর্বক নিকাহ দেওয়ার পর আদালতে তার পরিবারের কাছে ফিরেছেন। রিতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি সনাতন ধর্ম ত্যাগ করতে চান না।

২০০৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা দেওয়া হলো:

তারিখবয়সনামস্থানসম্প্রদায়/ধর্মঘটনা সংক্ষিপ্ত বিবরণ
২০০৩অজানাউত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশশিখআফ্রিদি উপজাতির সদস্যরা অপহরণ, অপহরণকারী দাবি করেছিল মেয়েটি ইসলাম গ্রহণ করেছে
৪ জানুয়ারি ২০০৫১৬, ১৮হেমি, মারভিউমেরকোট, কুনরি গ্রামহিন্দুঅপহরণ
৩ মার্চ ২০০৫১৪রাজীমিরপুরখাস, আসলাম টাউনহিন্দুঅপহরণ
২২ ডিসেম্বর ২০০৫১৩মাশুমিরপুরখাস, ঢালুরী গ্রামহিন্দুঅপহরণ
২৩ জুলাই ২০০৬১৫পূজাকরাচি, লিয়ারিহিন্দুঅপহরণ, আদালত মুক্তির নির্দেশ দিলেও পুনরায় অপহরণ, এখনও নিখোঁজ
২ আগস্ট ২০০৬১৬কোমলকরাচি, হকস বেহিন্দুঅপহরণ
৩১ ডিসেম্বর ২০০৬১৭দীপাসিন্ধু, থারপারকারহিন্দুঅপহরণ
মে ২০০৭অজানাঅজানাউত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, চরসাদ্দারখ্রিস্টানইসলাম গ্রহণ না করলে বোমা হামলার হুমকি, পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছে না
জুন ২০০৯অজানাঅজানাপাকিস্তানখ্রিস্টানধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ইসলাম গ্রহণ অস্বীকারের কারণে (ICC রিপোর্ট)
২০১৪, ২৩ সেপ্টেম্বরঅজানাজোতি কুমারীসিন্ধু, লারকানাহিন্দুঅপহরণ
১৪-১৯ মে ২০১৪৫৭অজানাঅজানাহিন্দুবিভিন্ন পরিবার জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত, চাকরি ও জীবিকার কারণে বাধ্য হয়ে ইসলাম গ্রহণ
২০১৭অজানাঅজানাখাইবার-পাখতুনখোয়া, হাঙ্গুশিখসরকারি কর্মকর্তা দ্বারা ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা, ধর্মীয় নির্যাতন
২৯ এপ্রিল ২০১৭১৭প্রিয়া কৌরবুনের জেলাশিখঅপহরণ
জুন ২০১৭১৬রবিতা মেঘওয়ারসিন্ধুহিন্দুঅপহরণ
২০১৯অজানারীনা ও রাভিনাপাকিস্তানহিন্দুজোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণের চেষ্টা, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন চেয়েছে
জানুয়ারি ২০১৯১৬আনুশা কুমারীপাকিস্তানহিন্দুঅপহরণ, ভারতীয় হাইকমিশন বিষয়টি জেনেছে, পদক্ষেপ নেই
২০১৯অজানাঅজানাপাঞ্জাবশিখঅপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, গভর্নরের আশ্বাস সত্ত্বেও বাড়ি ফিরতে পারেনি
২০২০১৫মেহক কুমারীপাকিস্তানহিন্দুঅপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জোরবিয়া বিবাহ, পরে পুলিশ উদ্ধার, আদালত নারীর সুরক্ষা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে
২০২০অজানাঅজানাপাকিস্তানখ্রিস্টান১৪ বছর বয়সী মেয়েকে অপহরণ, ইসলামে ধর্মান্তরিত, জোরপূর্বক বিবাহ, আদালত বৈধ বিবেচনা

পাকিস্তানের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার এই বিষয়ে নীরব থাকলেও স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, অনেক কিশোরী এখনও আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না। সিন্ধু, দক্ষিণ পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে এই ধরনের নিপীড়ন ক্রমবর্ধমান।

এই প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নাবালিকা মেয়েদের অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।