পৌষের শুরু থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা শীতের দাপট এখন দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। শীতল হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার পর্দায় ঢেকে গেছে বিভিন্ন অঞ্চল। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেক জায়গায় সূর্যের দেখা মিলছে না; কোথাও আবার দুপুরের আগেও কুয়াশা কাটছে না। শীতের এই প্রকোপে সাধারণ মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বেড়েছে দ্বিগুণ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহে রাত–দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, পাশাপাশি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দেশজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবারের পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কুয়াশা আরও ঘন হবে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান, সড়ক ও নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল ১৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার ঘটনা সেই সতর্কতার প্রমাণ।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার যে বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে, তাতে কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহের আভাস স্পষ্ট। যশোরে লাগাতার দ্বিতীয় দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী অঞ্চলে শীতের প্রকোপে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক এলাকায় রোদ দেখা না পাওয়ায় শীত যেন আরও কামড় বসিয়েছে। রংপুরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ফুলবাড়ী, বরিশাল, কুড়িগ্রাম, নাটোর—সব জায়গাতেই শীত ও কুয়াশার প্রভাব বেড়েছে।
শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। যশোর শহরের লালদীঘি অঞ্চলে প্রতিদিন যেখানে ৩০০–৪০০ শ্রমিক কাজের সন্ধানে হাজির হতেন, সেখানে এখন শীতের তীব্রতায় সংখ্যাটি অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। ঠান্ডাজনিত রোগ যেমন সর্দি, কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপও বাড়ছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর তথ্য জানিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (সাম্প্রতিক তথ্য)
| অঞ্চল/শহর | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (°C) | পরিস্থিতি |
|---|---|---|
| যশোর | ৮.৮ | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড, শ্রমিক উপস্থিতি কম |
| ঢাকা | ১৩.৫ | হালকা-মাঝারি কুয়াশা, বেলা বাড়লে রোদ দেখা যায় |
| রাজশাহী | ১০ | শৈত্যপ্রবাহের শুরু, রোদ মিলছে সামান্য সময় |
| রংপুর | ১১.৫ | ঘন কুয়াশা, কাজকর্মে প্রতিবন্ধকতা |
| ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) | ১১.২ | শীত বেড়ে জনজীবন স্থবির |
| বরিশাল অঞ্চল | — | কুয়াশায় নৌ চলাচল বন্ধ, পরে স্বাভাবিক |
আবহাওয়াবিদদের মতে, হিমালয় থেকে নেমে আসা ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ আগ্রহী হয়েছে বলে শীত আরও জেঁকে বসছে। জানুয়ারিতে এর মাত্রা আরও বাড়তে পারে, এমনও আশঙ্কা করছেন তারা। তাই শীতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই শীতের রাতে কুয়াশা জমে থাকলেও সকালের অপেক্ষায় মানুষ—হালকা রোদ আর স্বস্তির পরশেই হয়তো আবার সচল হবে জনজীবন।
