দেশের বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের অন্যতম পথিকৃৎ পূবালী ব্যাংক পিএলসি (Pubali Bank PLC) গত ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে তার পরিচালনা পর্ষদের ১,৫০০তম সভার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করেছে। দীর্ঘ পথচলায় উন্নত কর্পোরেট সুশাসন, কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক পরিপালন এবং দূরদর্শী কৌশলগত নেতৃত্বের মাধ্যমে ব্যাংকটি যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, এই সভাটি তারই এক আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রাহক আস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার এই গৌরবময় মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
রাজধানীর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান। উল্লেখ্য যে, ১৯৮৫ সালের জানুয়ারিতে পূবালী ব্যাংক যখন সরকারি মালিকানা থেকে বেসরকারি খাতে যাত্রা শুরু করে, সেই ঐতিহাসিক প্রথম পর্ষদ সভায়ও সভাপতিত্ব করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছর পর ১৫০০তম সভায় তাঁর সভাপতিত্ব করার বিষয়টি ব্যাংকের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং অভিজ্ঞতালব্ধ প্রজ্ঞার এক অনন্য নজির। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের সাবেক সফল চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার।
সভার মূল তথ্য এবং উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের বিবরণ নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
পূবালী ব্যাংকের ১৫০০তম পর্ষদ সভার সারসংক্ষেপ
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য ও অংশগ্রহণকারী |
| ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | বেসরকারি খাতে রূপান্তরের পর ১ম সভা (জানুয়ারি ১৯৮৫) থেকে ১৫০০তম সভা। |
| সভাপতি | মনজুরুর রহমান (চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ)। |
| নির্বাহী নেতৃত্ব | মোহাম্মদ আলী (ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও)। |
| উপস্থিত পরিচালকগণ | হাবিবুর রহমান, রুমানা শরীফ, আজিজুর রহমান, রানা লায়লা হাফিজ ও শাহীনুজ্জামান ইয়াকুব। |
| স্বতন্ত্র পরিচালক | প্রখ্যাত আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক ও মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী। |
| আর্থিক ও দাপ্তরিক বিভাগ | মোহাম্মদ লিটন মিয়া (CFO) ও মো. আনিসুর রহমান (কোম্পানি সচিব)। |
| মূল আলোচিত বিষয় | সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহক সেবার আধুনিকায়ন। |
সভায় পরিচালকদের মধ্যে আরিফ আহমেদ চৌধুরী এবং বিকল্প পরিচালক নাদির আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৫০০টি পর্ষদ সভা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি ব্যাংকের স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার প্রমাণ। তিনি জানান, পূবালী ব্যাংক বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবায় বিশেষ নজর দিচ্ছে।
চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান তাঁর বক্তব্যে অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৯৮৫ সালে যখন আমরা দায়িত্ব নেই, তখন লক্ষ্য ছিল একটি আধুনিক ও টেকসই ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলা। আজ এই পনেরোশতম সভায় দাঁড়িয়ে আমি গর্বের সাথে বলতে পারি, পূবালী ব্যাংক এখন দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম কারিগর।” সভায় ব্যাংকের বর্তমান প্রবৃদ্ধি পর্যালোচনা করা হয় এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এশা এবং পূবালী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা মো. শাহ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে ব্যাংকের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
