প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আজ (২৭ ডিসেম্বর) সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যাচ্ছেন। তিনি দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এক বছর সাড়ে চার মাস ধরে।
গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের পদত্যাগের পর ১০ আগস্ট সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলা ও সাংবিধানিক বিতর্কের সঠিক ও স্বচ্ছ বিচারের দিকে নজর দিয়েছে।
অবসরের পর ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শপথ গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি ২৩ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফার ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করেছেন।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শিক্ষাজীবন ও পেশাগত তথ্য নিম্নরূপ:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম ও শিক্ষা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি, যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন এলএলএম |
| আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি | ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে, ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে |
| হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ | ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট অতিরিক্ত বিচারক, ২০০৫ সালে স্থায়ী পদে নিয়োগ |
| আপিল বিভাগে নিয়োগ | ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ |
| প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ |
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ দেশের সংবিধান ও বিচারব্যবস্থায় তার সময়কালে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সংবিধানগত ও মানবাধিকার সংক্রান্ত মামলার সুষ্ঠু বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার অবসরকালে দেশের বিচারব্যবস্থা নতুন নেতৃত্বের অধীনে আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সৈয়দ রেফাত আহমেদের অবসরের মধ্য দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যেখানে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করবেন।
