বাংলাদেশের অজীবন বীমা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA)। সম্প্রতি প্রকাশিত নোটিফিকেশনে বলা হয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে অজীবন বীমা কোম্পানিগুলো এজেন্টের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। এ নির্দেশের ফলে এজেন্ট কমিশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
IDRA জানিয়েছে, ২০১০ সালের বীমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা এজেন্ট বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কমিশন দিতে বা গ্রহণ করতে পারবে না। এই বিধি লঙ্ঘন করলে যথাযথ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোটিফিকেশনে আরও বলা হয়েছে যে, অজীবন বীমা কোম্পানির কর্মকর্তাদের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা শুধুমাত্র প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা যাবে না। এছাড়া, রিস্ক-ভিত্তিক বিনিয়োগ ছাড়া অন্য সব বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুবিধা অবশ্যই কোম্পানির অনুমোদিত সেবা ও বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী প্রদান করতে হবে।
তবে সব বেতন, ভাতা ও সুবিধা নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। নগদ অর্থ বা কোনো অননুমোদিত পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া, কোম্পানিগুলোকে প্রতিমাসে নয়, প্রতি ত্রৈমাসিকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রিমুনারেশন এবং অন্যান্য সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হবে।
IDRA জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো:
পলিসিধারীদের স্বার্থ রক্ষা করা,
আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করা,
অজীবন বীমা খাতে কর্পোরেট শাসন ও গভার্নেন্স উন্নয়ন।
এজেন্ট কমিশন বাতিলের কারণ:
বীমা বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশন-ভিত্তিক ব্যবসা কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অজীবন বীমা খাতে underwriting ও পলিসিধারী সুরক্ষা দুর্বল করেছে। অতিরিক্ত কমিশন প্রেরণ ব্যবসায় মূল লক্ষ্য বিকৃত করেছে, যার ফলে:
প্রিমিয়াম আয়ের প্রতি বেশি মনোযোগ, underwriting মানে ক্ষতি,
ঝুঁকি মূল্যায়নে দুর্বলতা,
দাবির নিষ্পত্তি ধীরগতি।
IDRA-এর এই পদক্ষেপ বাজারে কাঠামোগত পুনর্গঠন আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। যদিও এটি কমিশন-নির্ভর কোম্পানিগুলোর জন্য সংক্রমণকালীন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, টেকসই এবং পলিসিধারী-কেন্দ্রিক বীমা বাজারের ভিত্তি স্থাপন করবে।
সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী সংক্ষেপে:
| বিষয় | নির্দেশনা |
|---|---|
| এজেন্ট ব্যবহার | সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ |
| কমিশন | বাতিল, কোনো ধরনের অনুমোদিত/অননুমোদিত কমিশন গ্রহণ বা প্রদান নিষিদ্ধ |
| বেতন ও ভাতা নির্ধারণ | প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে নয়, কোম্পানির নীতি অনুযায়ী |
| বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুবিধা | শুধুমাত্র অনুমোদিত নীতি অনুযায়ী প্রদান |
| প্রদান পদ্ধতি | সকল অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে |
| রিপোর্টিং | ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে রিপোর্ট দাখিল |
এই নতুন নির্দেশনা আগামী জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হবে, যা বাংলাদেশ অজীবন বীমা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
