ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত অবস্থায় ফেলে যাওয়া নারীর পরিচয় বুধবার নিশ্চিত হয়েছে। রাশেদা আক্তার (২২) নামে ওই তরুণীর মরদেহ মর্গে দেখে শনাক্ত করেছেন তার স্বজনরা।
রাশেদা আক্তার মাগুরা সদর উপজেলার পুখুরিয়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের কন্যা। বর্তমানে তিনি মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের আনসার ক্যাম্প এলাকায় থাকতেন। মাগুরার আলোকদিয়া অমরেশ বসু ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ৭ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে তার বোনের বাসায় উঠেন। বোনের সঙ্গে তিনি একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, “মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন স্বজনদের উপস্থিতিতে তৈরি করা হয়েছে। বুধবার ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
রাশেদার বড় বোন খালেদা আক্তার এবং ভগ্নিপতি মো. মামুন জানান, গ্রামের প্রতিবেশী নয়ন ইসলাম তার ওপর বিরক্তি প্রকাশ করতেন। তাদের অভিযোগ, নয়ন ইসলাম পরিকল্পিতভাবে রাশেদাকে হত্যা করে ঢামেকে ফেলে পালিয়ে গেছেন।
মিরপুর থানার তদন্তে জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর রাশেদা একটি যুবকের সঙ্গে হাঁটছিলেন। এরপর তার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বোনের বিবৃতি অনুযায়ী, রাশেদা শনিবার গার্মেন্টসে যায়নি এবং সারাদিন বাসাতেই ছিল। রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হন এবং এরপর আর ফিরে আসেননি। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, একই রাতে নয়ন ইসলাম ঢাকায় এসে রাশেদার সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃত ব্যক্তির নাম | রাশেদা আক্তার (২২) |
| গ্রামের ঠিকানা | পুখুরিয়া, মাগুরা সদর, মাগুরা |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | উচ্চ মাধ্যমিক (আলোকদিয়া অমরেশ বসু ডিগ্রি কলেজ) |
| ঢাকায় অবস্থান | মিরপুর ১ নম্বর সেকশন, আনসার ক্যাম্প এলাকার বোনের বাসা |
| চাকরি | গার্মেন্টস |
| অনুপস্থিতি শুরু | ২০ ডিসেম্বর |
| সন্দেহভাজন | নয়ন ইসলাম |
| ময়নাতদন্তের তারিখ | ২৪ ডিসেম্বর (আশা অনুযায়ী) |
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে ঢামেকের জরুরি বিভাগে এক যুবক রাশেদাকে মৃত অবস্থায় নিয়ে এসে পালিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে রাশেদার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
