ঢাকায় কনসার্ট আয়োজনে যে কারণে বাড়ছে জটিলতা

শীতকালীন কনসার্ট মৌসুম ঢাকায় আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অংশগ্রহণে জটিলতায় পড়েছে। বছরের শুরুতে পাকিস্তানের ব্যান্ড কাবিশ “ঢাকা ড্রিমস” কনসার্টে অংশ নিলেও, দশ মাস পর একই ব্যান্ডের জাফর জাইদি ও মাজ মাওদুদ ডিসেম্বর মাসে “ওয়েভফেস্ট: ফিল দিস উইন্টার” কনসার্টের জন্য ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সরকারি অনুমতি না থাকায় ৫ ডিসেম্বরের এই কনসার্ট শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়।

সরকার একইভাবে পাকিস্তানি শিল্পী আলি আজমাত, আতিফ আসলাম ও ব্যান্ড জল, এবং ভারতীয় গায়ক অনুব জৈনসহ অন্যান্য বিদেশি কনসার্টের অনুমতিও প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের স্বনামধন্য স্থানীয় শিল্পীদের কিছু কনসার্টও স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে রাজধানীতে শীতকালীন বিনোদন কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

অনুমতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ

বিদেশি শিল্পীদের কনসার্ট আয়োজনের জন্য সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, যা পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের যাচাই প্রক্রিয়া অতিক্রম করে। নির্বাচনের পূর্ববর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অনেক আবেদন স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “নির্বাচনের আগে কোনো কনসার্টের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না নিরাপত্তার কারণে।”

নিচের টেবিলে কিছু বাতিল ও স্থগিত কনসার্টের তথ্য তুলে ধরা হলো:

তারিখশিল্পী/ব্যান্ডকনসার্টের নামঅবস্থা
14 নভেম্বরআলি আজমাতলিজেন্ডস লাইভ ইন ঢাকাস্থগিত/বাতিল
28 নভেম্বরজল ব্যান্ডসাউন্ড অফ সোলস্থগিত/বাতিল
5 ডিসেম্বরকাবিশ ব্যান্ডওয়েভফেস্ট: ফিল দিস উইন্টারস্থগিত
12 ডিসেম্বরঅনুব জৈনঅনুব জৈন শোস্থগিত
13 ডিসেম্বরআতিফ আসলামআতিফ আসলাম অ্যাট মেইন স্টেজস্থগিত

টিকিট বিক্রির বিতর্ক

সরকারি অনুমতির অভাবের কারণে কনসার্ট ভক্ত ও আয়োজকদের মধ্যে টিকিট বিক্রয় নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষক হামিন আহমেদ জানান, অনুমতি ছাড়া টিকিট বিক্রি করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। কনসার্ট ভক্ত আটিয়া ইসলাম জানালেন, “আমি আতিফ আসলাম শোর জন্য টিকিট কিনেছি, কিন্তু শো স্থগিত হওয়ায় এখনও ফেরত পাইনি।”

মেইন স্টেজের প্রতিষ্ঠাতা কাজী রফসান নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শোগুলো আয়োজন করা হবে এবং পূর্বে কেনা টিকিটগুলো বৈধ থাকবে। যারা অংশগ্রহণ করতে না চায়, তাদের জন্য দশ কার্যদিবসের মধ্যে টিকিট ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে, ঢাকায় আন্তর্জাতিক শিল্পীদের কনসার্ট পুনরায় শুরু হবে এবং রাজধানীর শীতকালীন বিনোদন সূচি পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে।