এক বাড়ি, ৪৩ জন মানুষ, ২৪ ভোটার: কচুয়ার ধৈয়ামুড়ির গল্প

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় এমন একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে এক বাড়ির থেকে গড়ে উঠেছে পুরো জনপদ। স্থানীয়রা এই মহল্লাকে ‘মাঝিগাছা গ্রাম’ হিসেবেও চেনে। গ্রামটির নাম ধৈয়ামুড়ি, যা শত বছর আগে একটি পরিবারের দ্বারা স্থাপন করা হয়। আজও এখানকার জনসংখ্যা মাত্র ৪৩ জন, যার মধ্যে ভোটার ২৪ জন।

গ্রামের অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক অঞ্চল নিম্নরূপ:
বিষয়বিবরণ
ইউনিয়ন৩নং বিতারা ইউনিয়ন
ওয়ার্ড৭নং
গ্রামের অবস্থানউপজেলা সদর থেকে ১১ কিমি উত্তর-পশ্চিম, মাঝিগাছা গ্রামের পূর্ব-দক্ষিণ অংশের বিলাঞ্চল
সীমান্তউত্তর: মাঝিগাছা, দক্ষিণ: যুগিচাপর, পূর্ব: তেগুরিয়া
জনসংখ্যা৪৩ জন (৮টি পরিবার)
ভোটার সংখ্যা২৪ জন
পরিবারের গঠনবাবা-মা, সন্তান, নাতি-নাতনি

গ্রামের চারপাশে বিস্তৃত ফসলি জমি ও সবুজের সমাহার রয়েছে। তবে বছরের প্রায় ছয় মাস গ্রামটি কাদামাটিতে প্লাবিত হয়। এই সময়ে রাস্তাবিহীন গ্রামের একমাত্র ভরসা হয় নৌকা।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, রাস্তাঘাটের অভাবে সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত। অনেকেই গ্রামের সীমাবদ্ধতার কারণে শহরের দিকে ঝুঁকছেন। আমিন মোল্লা, ছালাম মোল্লা, ইসমাইল মোল্লা, শাহীন মোল্লা ও শিউলি বেগম বলেন, “স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ বা মক্তব না থাকলেও আমাদের প্রধান সমস্যা হল সড়ক। জন্মের পর থেকে আমরা কখনো মন্ত্রী, এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানকে দেখিনি। মাঝে-মধ্যে ইউপি সদস্য প্রার্থীরা দূর থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না।”

শত বছরের ইতিহাসে গ্রামটি দুই দিকেই রাস্তা পায়নি। তাই নতুন রাস্তা নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

উপজেলার বিতারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, “গ্রামের বিষয়টি আমাদের আগে জানা ছিল না। তবে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে দ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা করা হবে।”

গ্রামটি শত বছরের অদৃশ্যতায়ও আজো টিকে আছে। একদিকে প্রাচীন ঐতিহ্য, অন্যদিকে আধুনিক উন্নয়নের অভাব—ধৈয়ামুড়ি যেন চাঁদপুরের গ্রামীণ জীবনের এক বাস্তব চিত্র।