বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুই গণমাধ্যম—প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে সংঘটিত সহিংস হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার এক বিবৃতিতে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এসব ঘটনাকে “চরমভাবে উদ্বেগজনক” ও “গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী” বলে আখ্যায়িত করে। বিসিবির মতে, এ ধরনের বর্বরতা কেবল দুটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সার্বিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে।
বিবৃতিতে বিসিবি প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক, সম্পাদক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। হামলার ফলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতা ও পেশাগত ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে, তা গভীরভাবে অনুধাবন করার কথা জানায় বোর্ড। একই সঙ্গে বিসিবি পুনর্ব্যক্ত করে যে, তারা সব সময় স্বাধীন, পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পক্ষে রয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অবিচল।
বিসিবি আরও উল্লেখ করে, একটি মুক্ত, নির্ভীক ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম সুশাসন, সামাজিক অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সহিংসতার মাধ্যমে কোনো গণমাধ্যমকে কণ্ঠরোধের চেষ্টা শুধু সাংবাদিকদের জীবন ও নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করে না, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও জনআস্থাকেও দুর্বল করে দেয়। বোর্ড আশা প্রকাশ করে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পূর্বের মতোই পেশাদারিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারবে।
এর আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) একই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। বাফুফের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন, বিশেষ করে ফুটবলের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ফুটবলারদের সাফল্য তুলে ধরতে এই দুটি পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য। তাই তাদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ), বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস কমিউনিটি (বিএসজেসি) যৌথভাবে এক বিবৃতিতে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। বৃহস্পতিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। এর ফলে শুক্রবার দুটি পত্রিকার ছাপা সংস্করণ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি এবং সাময়িকভাবে তাদের অনলাইন সংস্করণও বন্ধ রাখতে হয়।
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা উঠে এসেছে। সকলেই একযোগে গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং সহিংসতার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।