নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের তিন সমর্থককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকাজুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দায়ের করা মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল মাঠে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে গুরুতর আহত মো. হাছান উদ্দিন নিজেই বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। হামলাকারীরা লাঠি, লোহার রড, বটি ও দাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায়। অভিযোগে বলা হয়, প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় এবং এতে তিনজনই গুরুতরভাবে আহত হন।
হামলায় সবচেয়ে বেশি আহত হন মো. হাছান উদ্দিন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। মামলার তথ্যমতে, হামলার সময় তার কাছে থাকা নগদ এক লাখ ৩৭ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
আহত মো. হাছান উদ্দিন বলেন, ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণেই তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন, যা একটি স্বার্থান্বেষী মহল মেনে নিতে পারেনি। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে বলে তার দাবি।
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম আরও বলেন, এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা বলে ধারণা করা হচ্ছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং কেউই ছাড় পাবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের কিল্লার বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন মো. ওমর ফারুকের ছেলে মো. হাছান উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিনের ছেলে এমদাদ হোসেন এবং এমরান হোসেনের ছেলে রাজিব উদ্দিন। তারা সবাই এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং আব্দুল হান্নান মাসউদের পক্ষে এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের সহিংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
