বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে মাগুরায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকালে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয় একটি ‘রাজাকার স্তম্ভ’। এই প্রতীকী স্তম্ভ স্থাপনের পর থেকেই সেখানে দিনব্যাপী চলে ঘৃণা ও প্রতিবাদের নানা কর্মসূচি, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সকাল থেকেই দেখা যায়, কলেজের শত শত শিক্ষার্থী সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ওই রাজাকার স্তম্ভের দিকে স্যান্ডেল নিক্ষেপ করছেন। অনেকেই ক্ষোভ ও ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে থুতু, কফ, ইট-পাটকেল ছুড়ে প্রতীকীভাবে একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনীর প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে কলেজের বাইরের সাধারণ মানুষ, পথচারী ও অভিভাবকরাও সংহতি প্রকাশ করেন। দিনভর চলা এই আয়োজনটি শুধু প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল নতুন প্রজন্মের পক্ষ থেকে দেশদ্রোহীদের প্রতি একটি শক্ত ও দৃঢ় বার্তা।
মাগুরার সচেতন নাগরিক সমাজ এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী, সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে দাঁড়িয়ে ঘৃণা প্রকাশে অংশ নেন। অনেকের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এটি একটি কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ। আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে জাগ্রত রাখা এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
এই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক কলেজ শিক্ষার্থী জুলফিকার আলি বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা এই দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, সেই রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা জানাতেই এই প্রতীকী স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন জানে—এই বাংলায় দেশদ্রোহীদের কোনো সম্মান নেই।
আরেক শিক্ষার্থী আতিক ফয়সাল সাইফ বলেন, আমরা একাত্তর দেখিনি, কিন্তু ইতিহাসে তাদের নৃশংসতার বিবরণ পড়েছি। আজও সেই পরাজিত শক্তি নানা ছদ্মবেশে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।
শিক্ষার্থী ইমন মোল্যা বলেন, যারা আমাদের মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে এবং লাখো মানুষ হত্যা করেছে, তাদের প্রতি ঘৃণা চিরকাল থাকবে। তিনি চান, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে দেশপ্রেম জাগ্রত হোক।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই একে প্রতীকী যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন, যেখানে অস্ত্র নয়, ঘৃণাই হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিজয়ের মাসজুড়ে তারা এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন, যাতে তরুণ সমাজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে এবং দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সদা সজাগ থাকে।
