থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে শিনাওয়াত্রা পরিবার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ফিউ থাই পার্টি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তাঁর ভাতিজা ইয়দচানান ওংসাওয়াতকে মনোনয়ন দিয়েছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে ৭৬ বছর বয়সী থাকসিন শিনাওয়াত্রা দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতেও শিনাওয়াত্রা পরিবার থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে ফিউ থাই দলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৬ বছর বয়সী ইয়দচানান ওংসাওয়াত।
ইয়দচানান সাবেক প্রধানমন্ত্রী সোমচাই ওংসাওয়াতের সন্তান এবং থাকসিনের বোন ইয়াওয়াপা ওংসাওয়াত্রার ছেলে। ফলে পারিবারিকভাবে তিনি শিনাওয়াত্রা রাজনৈতিক বংশের সরাসরি উত্তরসূরি। মনোনয়ন ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইয়দচানান বলেন, থাকসিনের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক দলকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির প্রসঙ্গ উঠে আসে নির্বাচনী আলোচনায়। নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইয়দচানান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।
চলমান সীমান্ত সংঘাতে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষ: প্রাথমিক চিত্র
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট নিহত | ৩২ জন |
| থাই সেনা নিহত | ১৬ জন |
| থাই বেসামরিক নিহত | ১ জন |
| কম্বোডীয় বেসামরিক নিহত | ১৫ জন |
| বাস্তুচ্যুত মানুষ | প্রায় ৮ লাখ |
ইয়দচানানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ২০১৪ সালে। তিনি শিনাওয়াত্রা পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং মাই অঞ্চল থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। তবে সে সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক শিনাওয়াত্রার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জেরে ভোটকেন্দ্র অবরোধ হয় এবং শেষ পর্যন্ত আদালত ওই নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে।
রাজনীতির পাশাপাশি ইয়দচানান একজন প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাবিদ ও গবেষক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি থাইল্যান্ডের মাহিদোল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। তাঁর নামে একাধিক উদ্ভাবনী চিকিৎসা যন্ত্রের পেটেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে ‘মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত হুইলচেয়ার’ এবং ‘মস্তিষ্কভিত্তিক ঘুম সতর্কতা ব্যবস্থা’ উল্লেখযোগ্য।
গত দুই দশক ধরে শিনাওয়াত্রা পরিবার থাইল্যান্ডের সামরিক ও রাজতান্ত্রিক অভিজাত গোষ্ঠীর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত। তাদের জনকল্যাণমূলক ও জনপ্রিয়তাভিত্তিক রাজনীতি দেশটির প্রচলিত ক্ষমতার কাঠামোর জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। ফলে ইয়দচানানের মনোনয়ন শুধু একটি নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নয়, বরং থাইল্যান্ডের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।